‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে লাগে’—দুদিন ধরে এ প্রবাদ সত্য হয়ে এসেছে দক্ষিণের মানুষের জীবনে। গত শুক্রবার সকাল থেকেই রোদ-মেঘের লুকোচুরির সঙ্গে উত্তুরে দমকা হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে নেমেছে স্থবিরতা।
গত শুক্রবার এ বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে। গতকাল শনিবার তা আরও নেমে ঠেকেছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে। আজ রোববারও একই তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এটা বরিশাল অঞ্চলে এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
আবহাওয়া বিভাগের ভাষায়, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। আর ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
আবহাওয়া বিভাগ বলছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি হলেও শীতের অনুভূতি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের মতোই। ফলে গতকাল সকাল থেকেই বরিশাল নগরে লোকজনের চলাচল ছিল কম। মেঘের মিশেলে রোদের তাপও ছিল ম্রিয়মাণ। এর সঙ্গে যোগ হয় তীব্র শীতল উত্তুরে দমকা বাতাস। ফলে শীত জেঁকে বসে সর্বত্র। ফলে মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে কম। এতে শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট তীব্রতর হয়েছে। নগরের বস্তিগুলোতে বসবাসকারী মানুষের শীতকষ্ট অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম থাকায় রিকশা, গণপরিবহনে যাত্রী ছিল কম। শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে যাওয়ায় তাঁরা কষ্টে আছেন পরিবার নিয়ে।
সকালে বরিশাল নগরের চৌমাথা এলাকায় কথা হয় আলী হোসেন (৫২) নামের এক দিনমজুরের সঙ্গে। শীতে জবুথবু আলী হোসেন সকালেই নগরে ছুটে এসেছেন কাজের সন্ধানে। তিনি বলছিলেন, ‘যে শীত হ্যাতে ঘরে খাওন থাকলে বাইরে নামতাম না।’ আক্ষেপ করে তিনি আরও বলছিলেন, ‘গরিবের শীত গায়ে লাগে না।’
রূপাতলীর বাসিন্দা রিকশাচালক আবুল কালাম রিকশা নিয়ে নেমেছেন সকালে। দুপুর ১২টায় বাংলাবাজারে তাঁর সঙ্গে দেখা। তিনি বললেন, ‘শীতে এমনেই রাস্তায় মানুষ কম। শীতে মানুষ রিকশায় ওডতে চায় না। হেইতে (সে কারণে) গত দুই দিন ধইর্যা আয়ও কম।’
শীত বাড়লে নগরের ফুটপাতে গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গতকাল সকারে নগরের চকবাজার, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকার ফুটপাতে দেখা যায়, রাস্তাঘাট ফাঁকা। ফুটপাতে ভ্যানে গরম কাপড় সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা।
আবদুল হাকিম নামের এক বিক্রেতা বললেন, ‘বেচমু ক্যামনে, রাস্তায় তো লোকজনই নাই দুদিন। আর মাইনষের পকেটে টাকাপয়সা না থাকলে কিনবেওবা কী দিয়া।’
বরিশাল আবহাওয়া বিভাগ বলছে, মৃদু এই শৈত্যপ্রবাহ আরও দুদিন স্থায়ী হতে পারে। আগামী মঙ্গলবার তাপমাত্রা বেড়ে শীতের প্রকোপ কমতে পারে। এবার শীত মৌসুমে গত ২০ ডিসেম্বর তাপমাত্রা একেবার নিচে নেমেছিল। ওই দিন এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে নেমেছিল।
বরিশালে রোববার তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। এর আগের দিনও একই তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। এটা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। গত শুক্রবার থেকে বরিশাল অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ নিচে নামতে থাকে।
জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এটা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হলেও উত্তুরে দমকা হিমেল হাওয়ার দাপটে শীত অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। আরও দু-এক দিন এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। এবার জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস ছিল আগেই।