
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের নির্ধারিত পোশাক পরতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের সরিৎ দত্ত গুপ্ত সভাকক্ষে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ইজিবাইক ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই সিটের রিকশা ও পাঁচ সিটের অটোরিকশাচালকদের সিটি করপোরেশন থেকে দেওয়া নির্ধারিত ডিজাইনের পোশাক পরতে হবে। এই পোশাক ছাড়া কোনো চালক গাড়ি চালাতে পারবেন না। যাঁরা ২০২০-২১ সালের অটোরিকশা ও রিকশার নিবন্ধন নবায়ন করেননি, তাঁদের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবায়ন করতে হবে।
প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, নগরে ৫ হাজার লাইলেন্সধারী বৈধ রিকশা ও ১০ হাজার বৈধ অটোরিকশা আছে। এ চালকদের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিটি করপোরেশনের দেওয়া নির্ধারিত ডিজাইনের পোশাক পরতে হবে। এই পোশাক চালকদের ২১০ টাকা মূল্যে কিনে পরতে হবে। তিনি আরও বলেন, মূলত এই পোশাকে চালকদের মধ্যে একটা শৃঙ্খলা আসবে এবং এটা নগরের একটা আলাদা সৌন্দর্যও বাড়াবে। বিভিন্ন সময় অটোরিকশা ছিনতাই হয়ে যায়। গায়ে পোশাক থাকলে এটা বন্ধ হয়ে যাবে।
রাজশাহী মহানগর ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি পেশার মানুষের পোশাক আছে। কিন্তু অটোচালকদের কোনো পোশাক ছিল না। কে চালক আর কে যাত্রী, এটা বোঝা যায় না। পোশাক থাকলে সহজেই যাত্রীরা চালককে চিহ্নিত করতে পারবেন। এ ছাড়া অটোরিকশা ছিনতাই হয়ে থাকে অনেক সময়। পোশাক থাকলে এটা হবে না।
ওই দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ্ মো. নূর-ঈ-সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. আতাউল আল কোরাইসী, সিটির ট্যাক্সেশন কর্মকর্তা (লাইসেন্স) মো. সারওয়ার হোসেন, রাজশাহী মহনগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হোসেন, রাজশাহী মহানগর ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম সাগর, সম্পাদক মো. রিমন প্রমুখ।