
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় এক ব্যক্তি (৫৫) মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে নিজের বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই ব্যক্তির মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠিয়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো উপসর্গ থাকায় আইইডিসিআরের পরামর্শে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আজ বুধবার সকালে ওই ব্যক্তির দাফন হয়। দাফনকাজ সম্পন্ন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আর স্থানীয় প্রশাসন ওই ব্যক্তির স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নড়িয়া উপজেলার ওই ব্যক্তি চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। গত সোমবার থেকে তাঁর ডায়রিয়া শুরু হয়। পরের দিন দুপুরে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। কোনো হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে তিনি বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শরীয়তপুর প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। ৪ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে নড়িয়ার এক বাসিন্দা (৯০) ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া জাজিরায় একজন এবং সদর উপজেলায় এক পরিবারের তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়ন্তী রুপা রায় জ্বর–শ্বাসকষ্টে একজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মৃত ব্যক্তির দাফন হয়েছে। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফল জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।