ভাষাসৈনিক মাহবুব তোরণ

সাত বছরেও পুনর্নির্মিত হয়নি, ক্ষুদ্ধ পরিবার

কাজী গোলাম মাহবুবের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর নাম মুছে ফেলতে তোরণটি ভাঙা হয়েছে।

ভেঙে ফেলা হচ্ছে ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব তোরণ
   ফাইল ছবি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সাত বছর আগে ভেঙে ফেলা সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুবের নামের তোরণটি এখনো পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে তাঁর নামে নির্মিত ভাষাসৈনিক চত্বর ও পাশের শহীদ মিনার। ক্ষমতাসীন দলের নেতা–কর্মীদের ইন্ধনে উপজেলা প্রশাসন এসব করেছে বলে অভিযোগ গোলাম মাহবুবের পরিবারের।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির একাধিকবারের নির্বাচিত সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন গোলাম মাহবুব। স্থানীয় লোকজন জানান, গোলাম মাহবুবের স্মৃতি রক্ষায় স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন ২০০২ সালে উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়কের মুখে ‘ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব তোরণ’ নির্মাণ করে। একই সঙ্গে তোরণ থেকে ২৫০ মিটার দূরে প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মাঠে ‘ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব চত্বর’ নির্মাণ করে সেখানে তাঁর ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। তার দক্ষিণ পাশেই নির্মাণ করা হয় গৌরনদী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

গৌরনদী উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় গৌরনদী উপজেলা চত্বরকে ‘ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব চত্বর’ করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০০৭ সালের ৮ মে এর অনুমোদন দেয়।

ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশন ও ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুবের পরিবারের অভিযোগ, ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে কাজী গোলাম মাহবুবের নাম মুছে ফেলতে পাঁয়তারা শুরু হয়। ২০১৫ সালে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন চারতলা করার সময় তোরণটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে উপজেলা প্রশাসন। ওই বছরই কাজী গোলাম মাহবুব চত্বর পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সেখানে নির্মাণ করা হয় একটি মিলনায়তন। একই সঙ্গে ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্মিত শহীদ মিনারটিও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা আক্তারসহ কয়েকজন সদস্য বলেন, ২০১৫ সালে ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব তোরণটি ভেঙে ফেলা, চত্বর ও শহীদ মিনার পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী জানিয়েছিলেন, প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণসামগ্রী আনা–নেওয়ার সুবিধার্থে তোরণটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে। কিন্তু সাত বছরেও তা পুনর্নির্মিত হয়নি।

ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ভাষাসৈনিকের স্ত্রী কাজী পিয়ারী মাহবুব বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কাজী গোলাম মাহবুবের নাম মুছে ফেলতে তোরণটি ভাঙা হয়েছে। চত্বর ও শহীদ মিনারকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে।

গৌরনদীর বর্তমান ইউএনও বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘২০১৫ সালের ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’