স্বামী হারানো তরুণী শিরিনের বিপদ আরও বাড়িয়েছে বন্যা

স্বামী মারা যাওয়ার পর বন্যায় আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শিরিন আক্তার
ছবি: প্রথম আলো

গেল মার্চে শিরিন আক্তারের (২৫) স্বামী তারেক হোসেন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারেক একটি লন্ড্রিতে কাজ করতেন। হঠাৎ স্বামীর মৃত্যুতে দুই মেয়েকে নিয়ে অকূল সাগরে পড়েন শিরিন। সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে নামমাত্র বেতনে তিনি আলু ও পেঁয়াজ কাটার চাকরি নেন। এভাবে সংসারও ঠিকঠাক চলছিল না। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হওয়ায় শিরিনের বিপদ আরও বেড়ে গেছে।

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিরিন আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্ববর্তী ঘোপাল গ্রামে দেড় হাজার টাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণ হিসেবে চাল দেওয়া হচ্ছে, এমন খবর শুনে তিনিও সেখানে এসেছিলেন। তবে তাঁর ভাগ্যে ত্রাণের চাল জোটেনি। তাই ঘণ্টা দু-এক অপেক্ষা করে ঘরে ফেরেন তিনি।

ঘরে ফেরার আগে শিরিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, যে ঘরে তিনি ভাড়ায় থাকেন, সেখানে বুকপানি। তবে এখন পানি অনেকটাই কমে গেছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর বন্যার পানিতে আরেক দফা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হলেন। পানিতে তোশক, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে এসব কিনতে হবে। এর মধ্যে বন্যার কারণে তাঁর হাতে কাজও নেই। কোনো খাদ্যসহায়তাও পাননি। ফলে সন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে শিরিনের।

শিরিনের তাঁর দুই মেয়ে শান্তা আক্তার (১২) ষষ্ঠ শ্রেণিতে ও ছোট মেয়ে হ্যাপি আক্তার (১১) মাদ্রাসায় পড়ছে। একটি প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ৩০ কেজি করে মোট ৬০ কেজি আলু ও পেঁয়াজ তাঁকে কাটতে হয়। এতে মাস শেষে বেতন হিসেবে পান ৫ হাজার টাকা। এতেই ঘরভাড়া, সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরিবারের সব খরচ চালাতে হয়।

শিরিন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তবে এখন বন্যায় আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় তিনি সারাক্ষণ চোখে অন্ধকার দেখছেন।