নওগাঁ

৪ শতাংশ ধানও সংগ্রহ হয়নি

নির্ধারিত সময়ের প্রায় অর্ধেক শেষ হলেও গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ৮৯৭ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করতে পেরেছে জেলার সরকারি গুদামগুলো।

  • অভিযান শুরুর দেড় মাসের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৩৯ শতাংশ চাল সংগ্রহ করা গেছে।

  • হাটবাজারে যে দামে মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে, গুদামেও সে দাম দেওয়া হচ্ছে।

ফাইল ছবি

চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁয় সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কৃষকেরা। ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর দুই মাসে মাত্র ৮৯৭ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪ শতাংশের কম। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যমন্ত্রীর জেলাতেই ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হতে চলেছে।

তবে অভিযান শুরুর দেড় মাসের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৩৯ শতাংশ চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ। গত আমন মৌসুমেও প্রায় শতভাগ চাল সংগ্রহ করা হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁয় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে আগামী ৩১ আগস্ট। গত ২৮ এপ্রিল সারা দেশে এ অভিযান শুরু হয়। আর চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয় গত ৭ মে। জেলার ১১টি উপজেলার ১৯টি খাদ্যগুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ১ হাজার ৮০ টাকা দরে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬ হাজার ৩৪ মেট্রিক টন। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় অর্ধেক শেষ হলেও গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ৮৯৭ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করতে পেরেছে জেলার সরকারি গুদামগুলো, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ মাত্র। অন্যদিকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৫৩ হাজার ৩২ মেট্রিক টন। সংগ্রহ অভিযান শুরুর দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ২০ হাজর ৭০০ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩৯ শতাংশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে নওগাঁর বিভিন্ন হাটবাজারে সরু জাতের ধান হিসেবে পরিচিত প্রতি মণ কাটারিভোগ ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৭০ টাকা ও জিরা ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা জাতের ধান হিসেবে পরিচিত বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০ থেকে ১ হাজার ১২০ টাকায়।

স্থানীয় কৃষক, চালকলের মালিক ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে স্থানীয় হাটবাজারে যে দামে মোটা জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে, গুদামেও সে দাম দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গুদামে ধান বিক্রি করতে চাচ্ছেন না কৃষকেরা। কারণ, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। আর্দ্রতার কথা বলে প্রতি মণে এক-দুই কেজি করে বেশি ধান নেওয়া হয়। অনেক সময় ধান ফেরতও দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় বাজারে এসব ঝক্কি-ঝামেলা নেই।

অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলাবাজারে মোটা চালের দাম বেশি হওয়ার কারণে মিলারদেরও (চালকলের মালিক) গুদামে চাল বিক্রিতে আগ্রহ নেই। কিন্তু মিলের নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতে লোকসান সত্ত্বেও তাঁরা চুক্তি অনুযায়ী গুদামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মিলমালিকেরা বলেন, বর্তমানে বাজারে মোটা চালের দাম ৪৫ টাকার নিচে নেই। অথচ সরকারি গুদামে চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। গুদামে চাল দিতে গেলে প্রতি কেজিতে তাঁদের ৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবির বলেন, ধান-চাল কেনার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে দাম বেশি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা এবার ধান শুকাতে পারছেন না। ভেজা ধানের আর্দ্রতা বেশি। আর ধানের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের বেশি হলে সেই ধান গুদামে কেনা সম্ভব নয়। এ জন্য কৃষকেরা গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে বাকি সময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শতভাগ চাল সংগ্রহের ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।’

চাল সংগ্রহে অচলাবস্থা

রানীনগর উপজেলায় চাল সংগ্রহ শুরু হওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নিবন্ধিত মিলমালিকদের মধ্যে অর্ধেক সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে আসেননি। উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সূত্র জানায়, উপজেলায় নিবন্ধন করা ১২৫টি মিল ছিল। এর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ না করায় তিন মৌসুমে ১৩ জন মিলমালিকের জামানত বাজেয়াপ্ত ও নিবন্ধন বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় বৈধ নিবন্ধনধারী ১০০ মিলমালিক রয়েছেন। এর মধ্যে চাল সরবরাহে মাত্র ৫১ জন মিলমালিক চুক্তি করেছেন। বাকি ৪৯ জন মিলার চাল সরবরাহের চুক্তি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

উপজেলা ধান-চালকল মিল মালিক সমিতির সভাপতি মোছাদ্দেক খান বলেন, চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল ৪-৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এরপরও নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতে লোকসান গুনে হলেও খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে হচ্ছে।

গুদাম কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, চলতি মৌসুমে অর্ধেক মিলমালিক চাল সরবরাহে চুক্তিতে আসেননি। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেকটা শঙ্কা রয়েছে।