
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘এবার আর যেনতেন নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। ১৪, ১৮ ও ২৪ মার্কা নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। যারা এ ধরনের অপকর্মের চিন্তা করবে, তাদের জন্য আমাদের স্পষ্ট বার্তা—মানুষ রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে। আবার প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনকে সফল করব ইনশা আল্লাহ।’
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার লাইন বিল পাবলা পূজা মন্দির এলাকায় হিন্দুধর্মাবলম্বী সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের লড়াই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। এই ফ্যাসিবাদ পুরাতন হোক আর নতুন, আমাদের লড়াই চলবে। যত দিন ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব থাকবে, তত দিন আমাদের লড়াই চলবে।’
স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘কিশোর, তরুণ, যুবক, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে এমন এক দেশ রেখে যেতে চাই, যেন শান্তিতে তারা শ্বাস নিতে পারে। চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসনের বিকল্প নেই। আমরা সবাইকে আল্লাহর আইনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
স্থানীয় হিন্দু কমিটির সদস্য কুমারেশ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আবু ইউসুফ মোল্লা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গুটুদিয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান তুহিনুল ইসলাম, হরিণটানা থানা আমির মাওলানা আব্দুল গফুর প্রমুখ।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড খামারবাড়িতে হিন্দুধর্মাবলম্বী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে তারা একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্রের সব সামাজিক, মৌলিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার ভোগ করবে। অতীতে এ দেশের অমুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন দল–মতের লোক বিভিন্ন সময়ে যখনই অত্যাচার–নির্যাতন চালিয়েছে, তখনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তার প্রমাণ রয়েছে ডুমুরিয়াবাসীর কাছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘হিন্দু, মুসলিম জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটদানের মাধ্যমে আপনারা আমাকে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। তখন আপনাদের দেওয়া আমানত আমি যথাযথভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে বিল ডাকাতিয়ার সমস্যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি মরণফাঁদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিল ডাকাতিয়ার পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আপনারা যদি আমাকে পুনরায় এ অঞ্চলের সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে আমি বিল ডাকাতিয়ার পানিনিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানসহ এই অবহেলিত জনপদের বাকি কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।’