চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো, চাপ ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। সোমবার রাতে সাড়ে ১১টায়
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো, চাপ ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। সোমবার রাতে সাড়ে ১১টায়

‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না’, চুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো, চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে সোমবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ভয়ভীতি দেখিয়ে চলমান আন্দোলন থামানো যাবে না।

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় গত সোমবার তাঁকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আন্দোলন শুরুর পর থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাছান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় একটাই দাবি নির্দিষ্ট করা হয়েছিল—অধ্যাপক সায়েমকে যেন উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসছে। তবে যত চাপই আসুক, আমরা আমাদের দাবিতে অনড়।’

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনের সপ্তম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে এসে জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে সবাই একত্র হয়ে আবার মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘এক দফা, এক দাবি—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন, থামানো যাবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলের পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

মিছিল শেষে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, ‘সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করায় আমাদের অনেককেই ভয় দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেকের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আরও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভয় দেখিয়ে এই আন্দোলন থামানো যাবে না। ৫ আগস্টের পর আমরা যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছি, তা রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। আমাদের ওপর যত চাপই আসুক, সায়েম স্যারকে উপাচার্য হিসেবে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালাব।’

অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন করছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। একই দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দাবি আদায়ে গত সাত দিনে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন, মশাল মিছিল, ‘৫৬ কেন’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা।