
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি বাজারের সরকারি বটগাছের ডাল কেটে প্রায় ৬০ হাজার টাকার কাঠ ও খড়ি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বাজারের বউবাজার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মুজিবুল হকের সহযোগিতায় ওই এলাকার লিটন নামের এক খড়ি ব্যবসায়ীর দোকান থেকে ৪৫ মণ কাঠ ও খড়ি জব্দ করেন। তবে কাঠ চেরাইকলে বিক্রি করা মোটা ডালগুলো উপজেলা প্রশাসন এখনো উদ্ধার করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
দাউদপুর বাজারের ইজারাদার ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল ইসলাম ও নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মুক্তি মাহফুজের নেতৃত্বে বাজারের কৃষি শেডের ব্যবস্থাপক জাকিরুল ইসলাম, স্থানীয় একরামুল হক, হামিদুল ইসলাম ও ইউনুস আলীসহ কয়েকজন দাউদপুর বাজারের বউবাজার চত্বরে আসেন। পরে তাঁরা সেখানকার পুরোনো একটি বটগাছের ৯টি মোটা ডাল কাটেন। এ সময় ওই বাজারের ইজারাদার ও বিএনপির নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক তাঁদের প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া গাছের ডাল কাটতে নিষেধ করেন। এতে খায়রুল ইসলাম ও মুক্তি মাহফুজ তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। ওই দিন বিকেলে গাছের ডাল ও খড়ি গাড়িতে করে দাউদপুর বাজারের একটি কাঠ চেরাইকল ও উপজেলার দুটি স্থানীয় বাজারে খড়ির দোকানে বিক্রি করা হয়। এসব কাঠ ও খড়ির আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা বলে দাউদপুর বাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
গাছের ডাল কাটা বা বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মুক্তি মাহফুজ বলেন, ‘গতকাল সোমবার সকালে দাউদপুর বাজারে গিয়ে দেখি, বটগাছের দুই-চারটা ডাল কাটা হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছু জানি না।’
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দাউদপুর বাজারের বউবাজার চত্বরে একটি বটগাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ পাই। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ওই বাজারের একটি খড়ির দোকান থেকে ৪৫ মণ কাঠ ও খড়ি উদ্ধার করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে রাখা হয়েছে। বাকি কাঠ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’