কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আগুনরাঙা পলাশ। রোববার দুপুরে তোলা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আগুনরাঙা পলাশ। রোববার দুপুরে তোলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আগুনরাঙা পলাশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়ার বাজার এলাকা।রোববার দুপুরে মহাসড়কটি দিয়ে যাওয়ার সময় আগুনরাঙা পলাশ দূর থেকেই চোখে পড়ছিল। যত দূর চোখ যায়, শুধু পলাশ আর পলাশ। ফুলটির এমন উপস্থিতিই বলে দেয়, প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের এখন কতটা দাপট চলছে!

মিয়ার বাজার ছাড়াও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় মহাসড়কের বিভাজকে ফুটেছে সারি সারি পলাশ ফুল। এই দুটি এলাকায় প্রায় ছয় কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কের বিভাজকে লাল রং ছড়িয়ে দিয়েছে পলাশ।

মহাসড়কের মিয়ার বাজার ও সুয়াগাজী এলাকা সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুইমুখী লেনের মাঝখানের বিভাজকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পলাশগাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। ঝরে পড়া ফুলের পাপড়ি ও শুকনা পাতায় বিভাজকের অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক গালিচা। দ্রুতগতির যানবাহনের মধ্যে থেকেও এই দৃশ্য চোখে পড়তেই অনেক যাত্রী মুঠোফোনে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় এক শ কিলোমিটার এলাকা পড়েছে কুমিল্লা জেলার অংশে। বসন্তের ফুল আগুনরাঙা পলাশ ফুটেছে মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার বিভাজকে। সবচেয়ে বেশি পলাশ ফুটেছে চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ অংশে। এ ছাড়া চান্দিনা ও দাউদকান্দি এলাকায়ও পলাশ ফুল চোখে পড়ে মহাসড়কের বিভাজকে। গাড়িতে চলতে চলতে ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন যাত্রীরা।

পলাশ বসন্তের ফুল। শীতে পাতা ঝরে গেলে পাতাহীন গাছের উঁচু উঁচু ডালে ফুটে থাকে পলাশ। একেকটি গাছ ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। এর বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড আঁকাবাঁকা। পলাশের বৈজ্ঞানিক নাম বুটিয়া মনোস্পার্মা। পলাশ ভারতীয় উপমহাদেশের ফুল হলেও বাংলাদেশে এই ফুল বেশি ফোটে। পলাশ ফুল লাল, লালচে কমলা, হলুদ ও সাদা রঙের হয়ে থাকে। এই গাছের নানা ঔষধি গুণও আছে। এ ছাড়া কবি-সাহিত্যিক আর শিল্পীদের কথা ও গানে পলাশ ফুল এসেছে বারবার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান-কবিতায় অসংখ্যবার এসেছে পলাশের কথা।

ঝরে পড়া ফুলের পাপড়ি ও শুকনা পাতায় বিভাজকের অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক গালিচা

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চালক মো. শহীদ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি। কিন্তু বছরের এই সময়টায় রাস্তার দৃশ্যটা একেবারেই বদলে যায়। পলাশ ফুল ফুটলে ক্লান্তি কমে যায়, মনটা ভালো হয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। মিয়ার বাজার এলাকায় একটি হোটেলের সামনে পলাশের সৌন্দর্য দেখে গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলেন তিনি। তানজিলা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত সুন্দর দৃশ্য মহাসড়কে দেখব, ভাবিনি। মনে হচ্ছিল, বসন্ত আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। তবে গাড়ি থেকে নেমে মনে হয়েছে, ফুলগাছগুলোর সৌন্দর্য আরও বাড়াতে মহাসড়কের বিভাজক নিয়মিত পরিচর্যা করা প্রয়োজন।’

পলাশ বসন্তের ফুল। শীতে পাতা ঝরে গেলে পাতাহীন গাছের উঁচু উঁচু ডালে ফুটে থাকে পলাশ

মিয়ার বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কের সৌন্দর্য রক্ষায় বিভাজক নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। মিয়ার বাজার এলাকায় ফুলগুলো কত সুন্দরভাবে ফুটে আছে। কিন্তু কিছু অসচেতন মানুষ বিভাজকে বাজারের ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছেন। এ ছাড়া ঝরে পড়া ফুল ও শুকনা পাতা পরিষ্কার এবং গাছগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে উপভোগ করা সম্ভব হবে।

মহাসড়কে চলাচলকারী একটি প্রাইভেট কারের চালক মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর সময় এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য চালকদের মানসিক চাপ কমায়। রাস্তা শুধু কংক্রিট আর ধুলা হলে একঘেয়ে লাগে।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন এবং রাতের বেলায় বিপরীত দিকের গাড়ির হেডলাইটের আলো যেন চালকের চোখে না পড়ে, এ জন্য ডিভাইডারে বিভিন্ন ধরনের গাছের পাশাপাশি এসব ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে পলাশ ফুলের সৌন্দর্যে চলাচলের সময় মানুষ মুগ্ধ হচ্ছেন। আমাদের শ্রমিকেরা নিয়মিত বিভাজকের গাছগুলোর পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। সামনে বিভাজকে আরও কিছু ফুলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সেখানে পলাশ ফুলের চারাও থাকবে।’