রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদলের লাশের টুকরা উদ্ধারের খবরে শোকে স্তব্ধ বাবা হামিদ মিয়া
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদলের লাশের টুকরা উদ্ধারের খবরে শোকে স্তব্ধ বাবা হামিদ মিয়া

রাজধানীতে লাশের খণ্ড উদ্ধার: শিবপুরে ওবায়দুল্লাহর বাড়িতে মাতম

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদলের (৩০) লাশের কয়েকটি টুকরা উদ্ধারের খবরে নরসিংদীর শিবপুরে তাঁর গ্রামের বাড়ির সদস্যরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারে কেউ, এটা বিশ্বাস করতে পারছেন না এলাকার মানুষ।

ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দি গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়ার ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ ছিলেন সবার বড়। এলাকার লোকজন তাঁকে বাদল নামে চিনতেন।

নিহত ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদল

গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুর থেকে কাটা দুটি হাত, দুটি পা ও মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। আঙুলের ছাপ সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয় মানবদেহের এসব খণ্ডিতাংশ ওবায়দুল্লার। এ ঘটনায় শাহিন নামের এক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের বিভিন্ন টুকরা উদ্ধার করা হয়।

সোমবার সকালে তাতারকান্দি গ্রামে নিহত ওবায়দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা রানী বেগম ও বোন মিলি আক্তার কান্না করছেন। তাঁদের আহাজারি থামাতে পারছেন না স্বজনেরা। এরই মধ্যে কয়েকবার জ্ঞানও হারিয়েছেন রানী বেগম। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাঁদের সমবেদনা জানাতে হাজির হয়েছেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন সবাই।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের বড় ছেলে ওবায়দুল্লাহ এইচএসসি শেষ করে সংসারের অভাব দূর করতে বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়ে ব্যর্থ হন। বছর দুয়েক আগে তিনি রাজধানীর তিন শ ফিট এলাকার এক হোটেলে কাজ নেন। ওই হোটেলের কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে একটি মেসে থাকতেন। এর কিছুদিন পর ওবায়দুল্লাহ পেশা পরিবর্তন করে একটি হোমিও ওষুধ প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তার কাজ নেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ বাড়িতে এসেছিলেন ওবায়দুল্লাহ। পরদিন ভোট দিয়ে আবার ঢাকায় চলে যান। যাওয়ার আগে দাদার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ রমজানে দোয়া মাহফিল আয়োজন করবেন জানিয়েছিলেন।

ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিয়া ছেলের মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। একটি টিনের ঘর দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ঘরটি ওবায়দুল্লাহর উপার্জনের টাকায় করা হয়েছিল। ছেলে নেই, এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। আমার বড় ছেলেকে যে বা যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই আমি।’