
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার সকালে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান এ তথ্য জানান।
ওসি বলেন, হামলার পর থেকে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানে একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাত ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গতকাল দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে কয়েক শ নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালান। এ সময় দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আবদুল হালিমকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ অন্তত ৬ জন আহত হন। তাঁদের কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগমের অভিযোগ, তাঁদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, রিয়াজ থানার হাজতে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন।
রিয়াজ ফকির বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান বলেন, রিয়াজ ফকির মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তাঁর মাথায় আঘাত থাকলেও তা গুরুতর নয়।