মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে বোমা হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার এক প্রবাসীর লাশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে বোমা হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার এক প্রবাসীর লাশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালে নিহত প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলাকালে নিহত প্রবাসীদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই আমাদের তরফ থেকে সাধ্যমতো তাঁদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে আমাদের করণীয় হলো, যাঁরা আহত হয়েছেন, যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের স্বজনদের কাছে নিয়ে আসা।’

আজ সোমবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বোমা হামলায় নিহত আহমদ আলীর (সালেহ আহমদ) লাশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের চারজন নাগরিক মারা গেছেন, নিশ্চিত করেন মন্ত্রী। বড়লেখার আহমদ আলী ছাড়া বাকি তিনজনের একজন কিশোরগঞ্জের, একজন টাঙ্গাইলের এবং অন্যজন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা বলে তিনি জানান। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন সৌদি আরবে, একজন বাহরাইনে এবং একজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রী জানান।

আরিফুল হক বলেন, ‘এর মধ্যে প্রথম যিনি মৃত্যুবরণ করেন, তিনি বড়লেখার বাসিন্দা। তাঁকে আমরা আজ রিসিভ করলাম। প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইন, সৌদি আরব, রিয়াদ, কুয়েত, আরব আমিরাত—যেখানেই ঘটনাগুলো ঘটছে, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করছে। যখনই আমরা শুনছি কারও মৃত্যু হয়েছে, তখনই সব প্রসেস করে আমরা লাশ আনার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে বোমা হামলায় নিহত প্রবাসীর লাশ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী

দুবাই থেকে বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলীর মরদেহ প্রথমে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ লাশ গ্রহণ করেন বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে নিহত চারজনের মধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। পরে অন্যদের লাশও নিয়ে আসা হবে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের কনস্যুলেটের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। যাঁরা অসুস্থ, আহত আছেন, তাঁদের সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আমাদের হটলাইন রয়েছে। তিনটি মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস টিম করা হয়েছে। যাঁরা আহত ও নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ রয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন—আমরা সবাই একযোগে প্রবাসীদের যতটুকু লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার সেটি অব্যাহত রাখব।’

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সব সময় খবর রাখা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসে এখনো যাঁরা যুদ্ধের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, আমাদের কনস্যুলেট যাঁরা আছেন, তাঁদের বাড়ির সামনেও ড্রোন হামলা হচ্ছে। তারপরও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বিভিন্ন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে খবরাখবর রাখছি। যার জন্য আমাদের কাছে ক্লিয়ার ম্যাসেজ আছে। আমাদের কাছে ডিটেইলস আছে, প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয় থেকে ইনফরমেশন দিতে পারব। কার পাসপোর্ট নম্বর কত, তাঁর বাড়ির লোকেশন জানা সবকিছু। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।’

লেবাননে বাংলাদেশি কনস্যুলেট না থাকায় সেখানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাকে (আইএলও) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান আরিফুল হক। তিনি বলেন, লেবানন থেকে আইএলওর মাধ্যমে প্রতিদিনকার তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির মাধ্যমে বাংলাদেশ নাগরিকদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি খারাপ হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান  প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘যদি বিমান চার্টার্ড করতে হয়, তারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জীবন বাঁচানো বড় বিষয়। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

জ্যেষ্ঠ সচিব জানান, ইতিমধ্যে যাঁদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে হটলাইন ১৬১৩৫–এর মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। যখনই ফ্লাইট চালু করা হবে, তখনই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ, তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হবে। সেটি প্রক্রিয়াধীন।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক আহমদ আলীর লাশ গ্রহণ করার পর স্বজনদের সঙ্গে তাঁদের গ্রামের বাড়ি  বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে যান। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ওই প্রবাসীর লাশ দাফন করার কথা রয়েছে।

নিহত আহমদ আলীর মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মামাতো ভাই কামাল আহমদ। এ সময় তিনি জানান, আহমদ আলী দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। তিনি সত্যিকারের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর এক ছেলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সরকারের পক্ষ থেকে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশিদের তিনি শহীদ ঘোষণার দাবি জানান।