‘আপনি মুরব্বি মানুষ। আপনার হাতের ব্যাগটা দেন, আমি বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি।’—এভাবে সহযোগিতার কথা বলে ২০ বছরের এক তরুণ ৭১ বছর বয়সী এক বিধবাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০ মে দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পাঁচ দিন পর গতকাল রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে উপজেলার মো. তরিকুল ইসলামকে। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ওই তরুণকে রক্ষা করতে অভিযোগ প্রত্যাহারসহ বিষয়টি নিয়ে আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নারীর করা মামলায় অভিযুক্ত তরুণকে গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ, ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
থানায় করা মামলায় ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, তিনি ২০ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের বাড়ি থেকে ভ্যানে করে স্থানীয় হাসপাতালের সামনে এসে নামেন। মেয়ের দেওয়া তরকারি ও মাছ ব্যাগে করে বাড়িতে নেওয়ার সময় সেখানে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় সাহায্যের কথা বলে ওই তরুণ এগিয়ে আসেন এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। তিনি তরুণের হাতে ব্যাগটি দেন এবং তাঁর পেছনে পেছনে একটি মাঠ দিয়ে বাড়ির দিকে যেতে থাকেন। বেলা দেড়টার দিকে ওই তরুণ তাঁকে ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগীর এক নাতনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর নানি ঘটনার পর থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ছিলেন। প্রতিবেশীদের অনেকেই মানসম্মানের কথা বিবেচনা করে মামলা না করতে পরামর্শ দেন। পরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে মামলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।