ভুয়া কৃষকের নামে সার নেওয়ার প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার দুপুরের পরে রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি বাজারে
ভুয়া কৃষকের নামে সার নেওয়ার প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার দুপুরের পরে রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি বাজারে

ভুয়া কৃষকদের নামে সার উত্তোলন, জামায়াতের যুব কর্মীর দোকানের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

রাজশাহীর পবা উপজেলায় চারজন ভুয়া কৃষকের নাম দিয়ে পরিবেশকের (ডিলার) কাছ থেকে ১৫ বস্তা সার নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের একজন কর্মী ধরা পড়েছেন। পরে সেই সার উদ্ধার করেছেন পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ঘটনার জন্য তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কীটনাশকের দোকানের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ সোমবার রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. লাকি। বড়গাছি বাজারে তাঁর কীটনাশকের দোকান রয়েছে, নাম বাদশা এন্টারপ্রাইজ। এই দোকান থেকে শুধু বালাইনাশক বিক্রির অনুমোদন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়গাছি বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত সার পরিবেশক মেসার্স জনতা হার্ডওয়্যার থেকে চার বস্তা ইউরিয়া, সাত বস্তা এমওপি, পাঁচ বস্তা টিএসপি ও তিন বস্তা ডিএপি তোলেন অভিযুক্ত লাকি। এ জন্য গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) তিনি চারজন ভুয়া কৃষকের নামে মেমো নেন, যা দিয়ে আজ বেলা তিনটার দিকে সার তুলতে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন আপত্তি তোলেন। তাঁরা বলেন, একজন কৃষককে এক বস্তাও সার দেওয়া হচ্ছে না, লাকি কেন ভ্যানভরে ১৫ বস্তা সার নেবেন? এ নিয়ে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। সেখানে প্রতিবাদ জানানোয় জাকির হোসেন নামের স্থানীয় এক অটোচালককে মারার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই পরিবেশকের গুদামের ভেতর থেকে সারভর্তি ভ্যান লাকির বাদশা এন্টারপ্রাইজে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃষক চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছে না, কিন্তু লাকি ভুয়া মেমো দিয়ে ১৫ বস্তা সার নিয়ে গেল। এই অন্যায় আমরা সহ্য করব না। এ জন্যই আমি প্রতিবাদ করেছি।’

খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান পবা থানার একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা সব শুনে লাকির দোকান থেকে সার ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। পুলিশ ও কৃষি কর্মকর্তারা সেই সার বিসিআইসির মূল পরিবেশকের গুদামে আনেন। নতুন ১৫ বস্তা ছাড়া আগে থেকেই তাঁর দোকানে আরও ৪ বস্তা সার ছিল। সেগুলোও নিয়ে আসা হয়। তিনি আইনত সার বিক্রি করতে পারেন না বলে মোট ১৯ বস্তাই ফেরত আনা হয়।

ভুয়া কৃষকের নামে সার দেওয়ার বিষয়ে বড়গাছি ইউনিয়নের বিসিআইসির পরিবেশক খলিলুর রহমান বলেন, কোন কৃষকদের নাম দেওয়া হয়েছিল, তা এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন আর তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন না।

যোগাযোগ করা হলে মো. লাকি প্রথম আলোকে বলেন, খুচরা সার কৃষকদের দেওয়া হয় না। সে জন্য তিনি সার সংগ্রহ করে কীটনাশকের দোকান থেকে অল্প করে বিক্রি করার জন্য নিয়েছিলেন। ভুয়া কৃষকের তালিকা দিয়ে একসঙ্গে ১৫ বস্তা সার নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো বিভিন্ন রকমের সার। কৃষকের নাম দিয়েই নিতে হয়।’

রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে লাকি বলেন, তিনি কোনো দল করেন না, এগুলো পছন্দও করেন না। তবে বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মিলন রহমান নিশ্চিত করেছেন যে লাকি তাঁদের দলের যুব বিভাগের কর্মী। তিনি নেতিবাচক কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।

পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। সার উদ্ধার করে মূল পরিবেশকের দোকানে পৌঁছে দিয়েছেন। লাকিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আর তাঁর দোকানের লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।