স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রতিদিন ৪০ হাজার ব্যাগ স্যালাইনের প্রয়োজন হচ্ছে। সেই হিসাবে মাসে ১২ লাখ ব্যাগ স্যালাইন লাগে। দেশের সব কোম্পানি মিলেও এত পরিমাণ স্যালাইন উৎপাদন করতে পারে না। প্রয়োজনে দুই মাসের জন্য বিদেশ থেকে স্যালাইন আমদানির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি স্যালাইনের ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে বিদেশ থেকে স্যালাইন আমদানি করতে হবে।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিট পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। ঢাকা শহরে হাসপাতালগুলোতে তিন হাজার শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার শয্যায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তি এবং বাকি এক হাজার শয্যা খালি। সারা দেশে পাঁচ হাজার শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক শয্যা খালি।
রোগী বাড়ায় স্যালাইনের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সারা দেশে স্যালাইন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ পরিমাণে স্যালাইন উৎপাদন করতে বলা হয়েছে। সেই মোতাবেক কোম্পানিগুলো স্যালাইন উৎপাদন করছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ১০ গুণ বেড়েছে। এ জন্য স্যালাইনের চাহিদাও বেড়েছে।
ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিটের সংকট নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বলা আছে, তাদের যদি সরকারিভাবে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে বাইরে থেকে কিট কেনার অনুমোদন দেওয়া আছে। কাজে কিটের সংকট হবে না।
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ডেঙ্গু কমাতে হলে মশা কমাতে হবে। মশা কমলে মশার কামড়ও কমবে। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমে যাবে। তাঁরা যেন ভালো করে ওষুধ ছিটান। ভালো ওষুধ ব্যবহার করেন যেন মশা নিধন বাড়ে।
মানিকগঞ্জে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালের সামনে অনেক বেসরকারি রোগনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) গড়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে বড় হাসপাতালের সামনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার হয় না, কিন্তু আমাদের দেশে হাসপাতালের আগে ডায়াগনস্টিক সেন্টার হয়ে যায়। এগুলো হওয়া উচিত নয়। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভালো যন্ত্রপাতি নেই। সেখান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সব সময় নিরাপদ ও সঠিক নয়। কাজেই জনগণকেও সচেতন হওয়া উচিত। অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে আবারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’