
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু জমি দখল নয়, পাকা স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় ১২ ব্যক্তি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভার মেয়রের কাছে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দিদার সরকারি খাস জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। এ কারণে সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পানি জমে থাকায় এলাকার ৭০ থেকে ৮০টি পরিবারকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
অভিযোগ দেওয়া ব্যক্তিদের একজন স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দিদার নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে খাস জায়গায় পাকা ঘর তৈরি করেছে। পাকা স্থাপনা তৈরির কারণে পানি চলাচলে ব্যাঘাত হচ্ছে। এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত এটির সমাধান না হলেও গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়ে ঝামেলা হতে পারে।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, প্রশাসনের নজর না থাকায় কোনো বাধা ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো খাস জায়গা দখল করা হয়েছে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দিদার জায়গাটি তাঁর বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাকা স্থাপনা করার আগে ওই জায়গায় তাঁদের গোয়ালঘর ছিল। সেটি ভেঙে নতুন করে ঘর তৈরি করা হচ্ছে। তা ছাড়া পানি অন্য দিক দিয়ে যাওয়ার রাস্তা আছে। অযথা ষড়যন্ত্র করে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. জালাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুজন পৌরসভার কাউন্সিলর ও একজন পৌরসভার সার্ভেয়ারকে ওই এলাকায় পাঠানো হয়। জায়গাটি পরিমাপ করে দেখা যায়, নির্মাণাধীন পাকা স্থাপনাটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমির ওপর তৈরি করা হয়েছে। পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিরও সত্যতা মিলেছে। পৌরসভা থেকে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি জানানো হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, ‘খাস জায়গা দখলের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করতে দিয়েছি। এখনো প্রতিবেদন পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেব।’