
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী বাজার। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাজারটিতে গিয়ে দেখা যায়, সাদা ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ টাকায়। রঙিন ফুলকপির দাম প্রতি কেজি ৮০ টাকা। শুধু এই বাজার নয়; সীতাকুণ্ডের প্রায় সব বাজারের চিত্রই অনেকটা এ রকম। চাষাবাদের ধরন ও খরচ একই হওয়া সত্ত্বেও বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে রঙিন ফুলকপি।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সীতাকুণ্ডে রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালে। সে বছর পরীক্ষামূলকভাবে ১৩ শতক জমিতে ১ হাজার ২০০ চারা লাগানো হয়। রঙের ভিন্নতার কারণে খুব দ্রুত স্থানীয় বাজারে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে; যার কারণে পরের বছর থেকে চাষাবাদও বেড়ে যায়। ২০২৪ সালে চাষাবাদ হয় ৩ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডের ৪ হেক্টর জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ হয়েছে।
গত সোমবার সকালে নিজের খেত থেকে রঙিন ফুলকপি সংগ্রহ করছিলেন উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রহমতনগর গ্রামের মডেল কৃষক মো. ইমতিয়াজ হোসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ৫০ শতক জমিতে এবার ৫ হাজার রঙিন ফুলকপির চারা লাগিয়েছেন তিনি। তবে তা একসঙ্গে লাগাননি। কিছু জমিতে লাগিয়েছেন নভেম্বরে শুরুতে, কিছু জমিতে ডিসেম্বরে, আবার কিছু জমিতে জানুয়ারিতে। পরিপুষ্ট হওয়ার পর এগুলো প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এখন পাইকারেরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মো. ইমতিয়াজ হোসাইন বলেন, জানুয়ারিতে লাগানো ফুলকপি আরও প্রায় দুই মাস পর বাজারে আসবে। তখন আবার ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যাবে। এখন পর্যন্ত তিনি দুই লাখ টাকার রঙিন ফুলকপি বিক্রি করেছেন বলে জানান।
সীতাকুণ্ডে প্রথম রঙিন ফুলকপির চাষ করেন সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাট সাঙ্গু গ্যাসফিল্ড সড়ক এলাকার কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ২০২৩ সালে রঙিন ফুলকপি চাষ শুরু করেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি রঙিন ফুলকপি চাষাবাদের পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও আয় করছেন। সাদা ফুলকপির তুলনায় বেশি দাম মেলায় রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ এলাকার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে।
ভাটিয়ারী বাজারের সবজিদোকানি রবিউল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সবাই রঙিন ফুলকপি কেনেন না। তবে অনেক ক্রেতা রঙিন ফুলকপি কিনতে পছন্দ করেন। এখন খুচরায় ৮০ টাকা কেজিতে রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে।
সীতাকুণ্ডের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রঙিন ফুলকপি চাষে খরচ সাদা ফুলকপির মতো, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। লাভ বেশি হওয়ায় প্রতিবছর নতুন নতুন কৃষক রঙিন ফুলকপি চাষাবাদে যুক্ত হচ্ছেন। সীতাকুণ্ডে চাষাবাদ ১৩ শতক থেকে এখন ৪ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় কৃষকের উৎপাদন এখনো কম।