বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছর আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল জোর করে। এখন যখন আবার গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ার জন্য চলার পথ শুরু হয়েছে, তখন একটি মহল কিন্তু ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব, চোখ–কান খোলা রাখার জন্য। আপনাদের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার কেউ ষড়যন্ত্র করে যেন কেড়ে নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।’
শনিবার সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এমন মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। মাঠে জড়ো হন ফেনীসহ আশপাশের জেলা থেকে আসা কয়েক হাজার নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বাস ফেনী শহরের সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠের সমাবেশস্থলে প্রবেশ করে। তিনি সমাবেশস্থলে ঢুকে মাগরিবের নামাজ শেষে মঞ্চে ওঠেন। দুই দশক পর ফেনীর কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিয়ে টানা ২৫ মিনিট বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কাজ শুরু করব। কথা একটাই, আমাদের দেশ গড়তে হবে। এই দেশ যদি আমরা না গড়তে পারি, ভবিষ্যৎ ধ্বংস হবে। ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব না। এই দেশ আমার–আপনার–সকলের শেষ ঠিকানা। এই দেশেই আমাদের জন্ম, এই দেশেই আমাদের মৃত্যু। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সে জন্য এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে জনসভায় অতিথির বক্তব্য দেন ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুক, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন ওরফে ভিপি জয়নাল, নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ফেনী-১ আসনের প্রার্থী মুন্সী রফিকুল আলম ওরফে মজনু, দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ, জালাল উদ্দীন মজুমদার, মামুনুর রশিদ, মেসবাহ উদ্দিন খান, শাহানা আক্তার, আবু তালেব, মশিউর রহমান।
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান বলেন, ‘এইবার ভোটের দিন যাঁরা যাঁরা তাহাজ্জুদ পড়েন না, তাঁরাও তাহাজ্জুদ সময় ঘুম থেকে উঠতে হবে। যাঁরা তাহাজ্জুদ পড়েন, তাঁরা নামাজ শেষে ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন।
ভোটকেন্দ্রের সামনে জামাত করে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। সকাল সাতটার পর ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট শেষে হিসাব-নিকাশ করে তারপর ঘরে ফিরবেন। কেউ হিসাব বুঝে নেওয়া ছাড়া ঘরে ফিরবেন না। এই দেশের মানুষের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’
ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘তিন জেলার মানুষের ওপর আমার আবদার রয়েছে। এসব জেলায় ধানের শীষ বিজয়ী হলে খালেদা জিয়ার বিজয় হবে। ফেনীবাসীর দাবি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার, মেডিকেল কলেজ করার আগে হেলথ কেয়ার দিতে চাই। পল্লিচিকিৎসকের মতো এলাকায় চিকিৎসক দিতে চাই। তাঁরা মা–বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে যেন চিকিৎসাসেবা দেন।’
ফেনী প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘ফেনীর সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এটা আমার নানার বাড়ি। চট্টগ্রামের মতো ফেনীতেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। ফেনীতে ইপিজেড করে দিতে চাই। তরুণদের ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠাতে চাই। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।’
বক্তব্য শেষে তিনি ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে অনুরোধ করেন। এ সময় তারেক রহমান বলেন, 'এঁদের জয়যুক্ত করলে, তাঁরা আপনাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁদের কাছে যাবেন। তাঁদের বলবেন এলাকার সমস্যা সমাধান করতে।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলমগীর, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ খালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ, এয়াকুব নবী, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল রহমান।
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে তিনি গাড়িতে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। এর আগে বেলা তিনটায় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভায় কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশ মঞ্চের পাশে গুমের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন তারেক রহমান। পরদিন শুক্রবার ঢাকায় সমাবেশ করেন। গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছান তারেক রহমান। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের পর বিকেলে তিনি ফেনীতে এসে ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে জনসভায় যোগ দেন। এরপর সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে একটি জনসভায় যোগ দেবেন। এই জনসভা রাত ১২টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।