
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়েছে। মাছটি নিলামে বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ২০০ টাকায়।
গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপবয়া এলাকায় ইলিশটি ধরা পড়ে সোহরাব গাজী নামের এক জেলের জালে। আজ বুধবার সকাল ৯টার সময় কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে মাছটি নিলামে বিক্রি করা হয়।
বঙ্গোপসাগরে ১০ বছর ধরে ইলিশ মাছ ধরেন সোহরাব গাজী। এত বড় ইলিশ সচরাচর পাওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাল ফেলার পর জাল টাইনা তুলতেই অন্যান্য মাছের লগে এই বড় আকারের ইলিশ মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নেওয়া হইলে ডাকের মাধ্যমে ৭ হাজার ২০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করা হইছে। অনেক বছর পর এত বড় একটা মাছ পাইলাম। এইতে আমি খুবই খুশি।’
মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মা মনি ফিসের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এত বড় মাছ এই বাজারে এখন খুব কম দেখা মেলে, তাই আমি নিলামের মাধ্যমে মাছটি ক্রয় করেছি। আমি শরীয়তপুরের এক প্রবাসী ভাইয়ের বাসায় এ মাছটি পাঠাব।’
এ রকম বড় একটি ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো খবর। এ রকম বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে মৎস্য নিষেধাজ্ঞার সুফলের কারণে। তবে বড় ইলিশ আগের তুলনায় কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক রাজীব সরকার। তাঁর ভাষ্য, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানি কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জাল ব্যবহার, পানিদূষণ, প্লাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বড় ইলিশ দিন দিন কমছে। ব্যাহত হচ্ছে ইলিশের প্রজনন।
এবার ভরা মৌসুমে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহও কম। উপকূলের বাজারগুলোতেও আগের মতো ইলিশ মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামি বলেন, ‘আগে বছরে অন্তত একবার ইলিশ কিনা খাইতে পারতাম, অ্যাহন সেইটা স্বপ্ন হইয়া গ্যাছে।’