জামালপুরে দ্বন্দ্বের জেরে পথে দেয়াল তুলে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর শহরের বেলটিয়া এলাকার পলিশা গ্রামে
জামালপুরে দ্বন্দ্বের জেরে পথে দেয়াল তুলে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর শহরের বেলটিয়া এলাকার পলিশা গ্রামে

সন্তানের প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্ব, পথে দেয়াল তুলে ২০ পরিবারের চলাচলে বাধা

জামালপুর শহরে সন্তানের প্রেমকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিরোধের জেরে চলাচলের পথে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ২০টি পরিবার টানা ১১ দিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে। চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ায় শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শহরের বেলটিয়া এলাকার পলিশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিস বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে গত সোমবার প্রতিকার চেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন আবদুল মজিদ নামের এক ব্যক্তি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালিশা গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে একই এলাকার একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর হঠাৎ ওই ছাত্রী নিখোঁজ হলে ১৪ ডিসেম্বর তার মা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন। মামলায় ছেলেটি ও তার মা–বাবাকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ওই ছাত্রী ও ছেলেটিকে উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে জবানবন্দি শেষে ছাত্রীকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

এদিকে মামলায় ছেলেটির মা ও বাবা প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘটনার জেরে ক্ষোভ থেকে ২৪ মার্চ কবির হোসেন তাঁর বাড়ির সামনে একমাত্র চলাচলের পথে ইটের দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেন। এতে ওই ছাত্রীসহ গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাপ-দাদার আমল থেকেই তাঁরা ওই পথ ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাজার, হাসপাতাল কিংবা মসজিদে যাতায়াতও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। আগেও অন্তত দুবার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল; পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেগুলো মীমাংসা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সামান্য বিরোধ তৈরি হলেই তাঁরা একইভাবে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন।

ছেলের মা বলেন, ‘ছেলে ও মেয়ে প্রেম করে পালিয়ে গিয়েছিল। ছেলের অপরাধে আমাকে ও আমার স্বামীকে মেয়ের মা–বাবা জেল খাটিয়েছে। এই কারণে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষ। আমি লাঠি (ক্রাচ) দিয়ে চলাচল করি। তারপরও আমাদের দুজনকে তিন মাস জেল খাটিয়েছে। আমরা মেয়ের বাবা-মাকে এদিক দিয়ে যেতে দেব না। তবে অন্য পরিবারগুলোর জন্য চলাচলের রাস্তা দেব।’

দেয়াল তোলা পরিবারের দাবি, তারা নিজেদের জায়গায় দেয়াল তুলেছেন। তবে এলাকাবাসী বলছে, জায়গাটি খাস খতিয়ানভুক্ত।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পরিবারকে আগামী রোববার আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পরিবারের কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।