বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসে ক্লাসে মনোযোগী সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দিদার মডেল হাইস্কুলে
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসে ক্লাসে মনোযোগী সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দিদার মডেল হাইস্কুলে

অনুষ্ঠানস্থল থেকে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে সংসদ সদস্য, শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে শুনলেন ক্লাস

সারা দেশের মতো কুমিল্লাতেও শুরু হয়েছে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’। সোমবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কুমিল্লা জেলা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্তব্যের সময় জানতে চান অনুষ্ঠানের কারণে একই আঙিনায় দিদার মডেল হাইস্কুলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে কি না। তখন শিক্ষকেরা বলেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্বাভাবিক আছে। তখনই ঘটে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা।

সংসদ সদস্য মনিরুল হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে হঠাৎ ঢুকে পড়েন দিদার মডেল হাইস্কুলের মূল ভবনের নিচতলার একটি শ্রেণিক্ষকে। তখন সেখানে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা বিষয়ের পাঠদান চলছিল। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক পড়াচ্ছিলেন, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। এমন চিরচেনা দৃশ্যের মধ্যে নিঃশব্দে এসে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসলেন সংসদ সদস্য। মনোযোগী ছাত্রের মতোই শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসে প্রায় ৩০ মিনিট পাঠদান শোনেন তিনি। এমন ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী প্রচলিত প্রথা ভেঙে কোনো বিশেষ আসন না নিয়ে তিনি শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে গিয়ে বসেন। শিক্ষক শামীমা আক্তারকে অনুরোধ করেন পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে। এমনকি ক্লাস চলাকালে যেন বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করে বিঘ্ন না ঘটায়, সেই নির্দেশনাও দেন তিনি।

ক্লাস চলাকালে সংসদ সদস্য এক ছাত্রীর কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলি-মজুর’ কবিতাটির আবৃত্তি শোনেন। ছাত্রীর আবৃত্তি শুনে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। ক্লাসের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। নিয়মিত স্কুলে আসা এবং নিজেদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতা নিয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দময় করে তুলতে হবে। আমি তাদের সঙ্গে মিশে ক্লাস করেছি, যেন তারা বুঝতে পারে পড়াশোনা কোনো ভয়ের বিষয় নয়, বরং উপভোগের। শিক্ষা যদি আনন্দদায়ক হয়, তবে শিক্ষার্থীরা আর স্কুল ফাঁকি দেবে না। এ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও দক্ষ শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই।’

দিদার মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অর্চনা দেবনাথ বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের এভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যাওয়া আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ বাড়বে, তেমনি শিক্ষকদের দায়িত্ববোধও আরও দৃঢ় হবে। টিকাদান কর্মসূচি শেষে এমপি মহোদয় আকস্মিকভাবে ক্লাসে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন অংশগ্রহণমূলক উপস্থিতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে মনে করি।’