হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ৫–৬ জনের একদল তরুণ তাঁকে মারধর করে। এতে তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
জেলা ছাত্রদলের কিছু নেতা–কর্মী এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাহাদী হাসান। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ হামলার সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয়। এটা মাহাদীর সাজানো নাটক।
এ বছরের ২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ছাত্রনেতা মাহাদী হাসান জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’ এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে মাহাদী ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে জেলা বিআরটিএর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে তিনি একটি ইজিবাইকে করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া করেন বলে ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে মাহাদী হাসান হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান কয়েকজন সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে। এ সময় মাহাদী জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজের কাছে তাঁর কাযালয়ের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও দৃশ্য সংগ্রহের আবেদন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তাঁর কার্যালয়ের বাইরে এ ঘটনা ঘটেছে। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তাঁরা দেখবেন। সেখানে কাজ শেষ করে মাহাদী হাসান ও তাঁর সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসার সময় আকস্মিক ৫ থেকে ৬ জনের একদল তরুণ তাঁর ওপর হামলা চালায়। তখন আশপাশের লোকজন হামলাকারীদের বাধা দেন। মারধরে আহত মাহাদী হাসানকে পরে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাইকা রহমান বলেন, মাহাদী হাসান হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁর শরীরে কিছু জায়গা লালচে আঘাতের দাগ রয়েছে। তাঁকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তিনি নিজ দায়িত্বে বাসায় চলে যান।
মাহাদী হাসান অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রদলের ১০–১২ জন নেতা–কর্মী তাঁর ওপর হামলা করেছেন। একই লোকজন তাতে এর আগের দিন বুধবার দুপুরে একই জায়গায় ধাওয়া করে। মাহাদী দাবি করেন, ফেসবুকে তাঁর একটি স্ট্যাটাস ঘিরে এ হামলা করা হয়েছে। তিনি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, মাহাদী হাসান সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ এনে তাঁর প্রশংসা করেন। এ ঘটনা নিয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন।
মাহাদীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীরা হামলা করেনি। সে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। শুনেছি মাহাদী বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার জন্য এসব ঘটনা নিজে সাজিয়ে সে ভিডিও লাইভ করে। এটা তার সাজানো নাটক।’
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাহাদী হাসানের খবর পেয়ে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। ৫ থেকে ৬ জন তরুণ তাঁকে লাথি–কিল–ঘুষি মেরেছে, এমন প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। কারা এ হামলা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে মাহাদী হাসান এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।