যমজ দুই বোনের বয়স মাত্র ১৫ মাস। এখনো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি পৃথিবীটা। এখনো দুই কন্যাশিশু অপেক্ষা করছে মায়ের ফেরার। গতকাল রোববার রাত থেকে তারা কান্না করছে মায়ের জন্য। ছোট দুই শিশু জানে না, মা আর ফিরে আসবে না। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন খাগড়াছড়ির শিক্ষিকা অপর্ণা ধর (৪০)। রোববার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শালবন গেট এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। অপর্ণা ধর খাগড়াছড়ি শালবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু স্বজন ও সহকর্মীরা মানতে পারছেন না।
স্বজনেরা জানান, সংসার, শিক্ষকতা আর দুই ছোট মেয়েকে ঘিরেই ছিল অপর্ণার পৃথিবী। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল তাঁর অনেক স্বপ্ন। নিয়মিত স্কুলে পাঠদান শেষে পরিবারের জন্য সময় দিতেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিল সেই পথচলা।
স্থানীয় লোকজন জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চলন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তাঁর ওড়না গাড়ির চাকার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এতে গলায় ফাঁস লেগে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ সোমবার সকালে অপর্ণার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা বলছিলেন, অপর্ণা ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও দায়িত্বশীল মানুষ। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। অপর্ণার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিচিতজনদের মধ্যে। সহকর্মীদের কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না, হাসিমুখে ক্লাস নেওয়া অপর্ণা আর ফিরে আসবেন না।
শালবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক সহকর্মী মনোয়ারা আক্তার বলেন, ‘অপর্ণা ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব একজন শিক্ষক। তিনি সব সময় হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলতেন। তাঁর এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।’
আয়েশা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘ম্যাডাম আমাদের খুব আন্তরিকভাবে পড়াতেন। কোনো বিষয় না বুঝলে বারবার বুঝিয়ে দিতেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে আমরা সবাই কষ্ট পাচ্ছি।’
অর্পণা ধরের ভাশুর তুষার ধর বলেন, অল্প সময়ে তার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না সবাই। ছোট দুই বাচ্চাকে কীভাবে তার স্বামী মানুষ করবে এ নিয়ে চিন্তায় আছি। অপর্ণার ভাই এবং দেবর ভারত থেকে চলে আসলে সন্ধ্যায় দাহ করা হবে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পরিবারের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।