চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সকাল ১০টায় নগরের পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সকাল ১০টায়  নগরের পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন হবে। এ জন্য কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে পরিবারের নারীপ্রধানদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। নগরের পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। এদিন পাঁচজন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নগরে অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে। শুরুতে ওয়ার্ডের ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারের প্রধান নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে পরিবারের নারীপ্রধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারের নারীপ্রধানকে ক্ষমতায়ন করা না গেলে তাঁর সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি না হলে আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ডের ধারণা এসেছে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণত দেশের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লাগে। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে অল্প সময়েও তা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প তার প্রমাণ।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ভালো থাকে এবং জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকে, তাহলে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছিল, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু তা বাস্তবে হয়নি। এবার সেই সুফল পিছিয়ে পড়া মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সকাল ১০টায় নগরের পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে

ধাপে ধাপে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ টাকার জন্য কাউকে কোথাও যেতে হয়নি বা কারও কাছে আবেদন করতে হয়নি। সরকার নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে নির্বাচন করেছে। কোনো রাজনৈতিক কর্মী এতে জড়িত ছিলেন না। পুরোটা সরকারি কর্মকর্তারা করেছেন। প্রথমে হতদরিদ্র, পরে দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ—এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বাজেটের বড় অংশ এ প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকের মনে সন্দেহ ছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা এত বড় উদ্যোগ নিতে পারবে কি না। তবে জনগণের ক্ষমতায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের বড় একটি অংশ এই প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য ফার্মারস কার্ড চালু করা হয়েছে, যাতে তাঁরা স্বল্পমূল্যে সারসহ কৃষি উপকরণ পেতে পারেন। এ ছাড়া দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যাতে তাঁরা নতুনভাবে কৃষিকাজ শুরু করতে পারেন এবং উৎপাদন বাড়াতে পারেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান প্রমুখ।