
কৃষক বাদল পাটোয়ারী (৫০) উঁচু জমি ও সড়কের পাশের জমিতে অর্ধশতাধিক কাঁঠালগাছের চারা রোপণ করেছিলেন। পাঁচ বছর ধরে তাঁর ৩২ শতক জমিতে সেসব গাছে কাঁঠাল ধরছে। গত বছর কাঁঠাল বিক্রি করে তাঁর আয় হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এবারও গাছগুলোতে চার শতাধিক কাঁঠাল ধরেছে। কিছু পাকা কাঁঠাল তিনি বিক্রিও করেছেন। এতে তাঁর সংসারে এসেছে সচ্ছলতা।
বাদল পাটোয়ারীর বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে নেদামদী গ্রামে। তিনি জানান, কাঁঠাল বিক্রি করে এবার তাঁর আয় হবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বছরে কাঁঠাল বিক্রি করে তাঁর বাড়তি আয় হচ্ছে ৩০–৫০ হাজার টাকা।
বাঁধের ভেতরে অনেক কৃষক তাঁদের জমিতে, বাড়িতে বা সড়কের পাশে তৈরি করেন ছোট-বড় কাঁঠালবাগান। এসব বাগানে শোভা পাচ্ছে কাঁচা, আধা পাকা ও পাকা কাঁঠাল। পাকা কাঁঠালের গন্ধে পুরো বেড়িবাঁধ এলাকা যেন এক খণ্ড কাঁঠালের রাজ্য হয়ে উঠেছে। এখানকার কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আকার অনুযায়ী একেকটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানিয়েছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চার শতাধিক গ্রাম এলাকায় মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার কাঁঠালগাছে এবার ভালো ফলন হয়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। গত বছর এখানে কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছিল ৩৫ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন।
রোববার সকালে উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে নেদামদী, ফতেপুর, ছেংগারচর, রসুলপুর, সিপাইকান্দি, এনায়েতনগর, সুজাতপুর, গজরা, নবুরকান্দি, নাউরী, আমিরাবাদসহ আরও কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়, সেখানকার উঁচু জমি, পুরোনো বাড়ি ও সড়কের পাশে অনেক কাঁঠালগাছ। গাছে ঝুলছে কাঁঠাল। পাকা কাঁঠালের মিষ্টি সুবাস ছড়াচ্ছে চারপাশে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে কাঁঠাল।
মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ এলাকার মো. তৌফিক, নেদামদী এলাকার হান্নান মীর ও লুধুয়া গ্রামের জাকির হোসেনসহ কয়েকটি গ্রামের আরও অন্তত ২০ জন কাঁঠালচাষির সঙ্গে কথা হয়। লুধুয়া গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, সড়কের পাশে নিজের জায়গায় তাঁর ৩০টি কাঁঠালগাছ রয়েছে। সেগুলোয় এবার ভালো ফলন হয়েছে। কিছু পাকা কাঁঠাল বাজারে বিক্রি করেছেন। বাকিগুলোও বিক্রি করবেন। দাম পাচ্ছেন মোটামুটি ভালো। পরিবারে ফলের চাহিদা মিটিয়ে কাঁঠাল বিক্রি করে এবার প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন। অন্যান্য ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি এটি তাঁর বাড়তি আয়।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, এবার উপজেলায় বাঁধ এলাকায় কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। দাম ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাঁর কার্যালয় থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বেশি করে কাঁঠাল আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।