রোজা শুরুর আগেই নওগাঁর বাজারে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। বুধবার সকালে নওগাঁ পৌর বাজারে
রোজা শুরুর আগেই নওগাঁর বাজারে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। বুধবার সকালে নওগাঁ পৌর বাজারে

নওগাঁ

রোজা শুরুর আগে নাগালের বাইরে লেবু, ঝাঁজ বেড়েছে কাঁচা মরিচের

আগামীকাল শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এর আগে নওগাঁর বাজারে ইতিমধ্যে লেবু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসা, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেড়েছে লেবুর দাম। ৫০ টাকার কমে কোথাও এক হালি লেবু পাওয়া যাচ্ছে না।

আজ বুধবার সকালে নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড় পাইকারি সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আড়তের দোকানগুলোতে খুব অল্প লেবু, কাঁচা মরিচ ও বেগুন উঠেছে। কৃষকেরা ভ্যান কিংবা রিকশায় করে লেবু, শসা ও বেগুন আনার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি বিক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন।

পৌর খুচরা সবজি বাজার, সিও অফিস বাজার, পার-নওগাঁ যমুনা মার্কেট ও বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য সময় সব খুচরা সবজি বিক্রেতার কাছে বিভিন্ন ধরনের সবজির পাশাপাশি লেবু থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ বিক্রেতার কাছেই লেবু নেই। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাঁরা নিয়মিত ও দোকানের প্রধান পণ্য হিসেবে লেবু বিক্রি করেন, তাঁরাই বিভিন্ন টুকরিতে বিভিন্ন আকারের লেবু সাজিয়ে রেখেছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ১৬ থেকে ১৮ টাকা। আজ সেই লেবু ৫০ থেকে ৬০ টাকা হালি দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি বেগুনের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। এ ছাড়া কাঁচা মরিচের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শসার দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল।

পৌর বাজারের সবজি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সবজি বিক্রি করছেন। এই শুকনো মৌসুমে সব সময় লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম চড়া থাকে। কারণ, বাজারে সরবরাহ কম থাকে। এ জন্য দাম বেড়েছে। আর রোজার কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তিন-চার দিনে দাম আরও বেড়েছে।

এদিকে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনেরও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি রসুন এক সপ্তাহ আগে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়, আদার দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। পেঁয়াজের দামও কেজিপ্রতি ৬ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

নওগাঁয় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি লেবুর দাম বেড়েছে তিন গুণ পর্যন্ত। বুধবার সকালে

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। ক্রেতারা বলছেন, রোজা এলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর প্রবণতা এবারও দৃশ্যমান। নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সবার আগে সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়া। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

বিক্রেতারা বলছেন, রোজার শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি বাজার করছেন। এ জন্য কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে। এ ছাড়া লেবু, কাঁচা মরিচ ও শসার সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে অন্য সবজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। দামও স্বাভাবিক আছে।

সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে মুরগি, গরু ও খাসির মাংসের। বুধবার নওগাঁ শহরের পৌর মুরগি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শহরের গোস্তহাটি ও কালিতলা এলাকায় মাংসের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৫০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৫০ টাকা বেড়ে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁর সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিনই আমরা বাজার মনিটরিং করছি। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বেশি নিলে কিংবা ভোক্তাদের প্রতারিত করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’