
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪ জনে। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যুর রেকর্ড ছিল। আজ দুপুরে হাসপাতাল থেকে পাঠানো নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে একজন শিশু। আর বাকি তিনজনের বয়স ৪০ বছরের বেশি। এর মধ্যে একজন শুধু ১৬ নভেম্বর থেকে ভর্তি ছিলেন। আর বাকি তিনজন হাসপাতালে মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ভর্তি হয়েছিলেন।
মারা যাওয়া চারজন হলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আসগর আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৪২), নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মো. সাকিমের ছেলে মো. ফারুক (৪৩), রাজশাহীর বাঘা উপজেলার জিল্লুর রহমানের ছেলে মো. আরাফাত (১৪) ও রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানা এলাকার ফণিন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ছেলে পুলক কুমার চক্রবর্তী (৭০)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বড়াই গ্রামের রবিউল ইসলাম গতকাল ভোর চারটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে তাঁকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাওয়ায় ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে গতকাল বেলা একটার পর তিনি মারা যান। তিনি পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। আত্রাইয়ের ফারুক গতকাল বিকেল ৬টার দিকে ভর্তি হন হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখান থেকে রাত একটার দিকে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ সকাল সাতটায় তিনি মারা যান। তিনি স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
বাঘার আরাফাতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল গত বুধবার রাতে। হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে আজ সকাল সোয়া সাতটার দিকে আরাফাত মারা যান। আরাফাত স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হন। তিনি চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। রাজশাহী নগরের পুলক কুমার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৬ নভেম্বর। প্রথমে হাসপাতালের ৩২, পরে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলে তাঁর। অবস্থা খারাপ হওয়ায় বুধবার সকালে তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ ভোর সোয়া ছয়টায় তিনি মারা যান।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাঁদের কয়েকজন সঠিক সময়ে হাসপাতালে আসতে পারেননি। অনেকেই চিকিৎসার সময়ই দেননি। তাঁরা স্থানীয়ভাবেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শুধু ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আজ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ১৭ জন রোগী। স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬৮ জন। বাকিরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৮৫৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। বর্তমানে ১২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।