
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার রাতে ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন সই করা এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা নুরুল আমীন প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রজ্ঞাপন দেওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা গেছে।
ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্ধারিত আচরণবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি প্রদান করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ইসির এক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচনসহ দেশের সব পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এর ফলে শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ২০ জানুয়ারি হবে কি না, তা নিয়ে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। ওই দিনই রাতভর বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার প্রার্থীরা নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুমতি প্রদান করতে গতকাল রাতে ইসিতে অনলাইনে চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি এই প্রজ্ঞাপন জারি করল।
ইসির প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী হাফিজুর ইসলাম বলেন, ‘কষ্টের পর নির্বাচন হচ্ছে, তাই তা অনেক উচ্ছ্বাসের বিষয়। শঙ্কায় ছিলাম এত দিন। অবশেষে নিশ্চিত হলাম যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।’
ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ রাত ধরে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করার পর অবশেষে নির্বাচন হচ্ছে। এতেই ভালো লাগছে। নির্বাচনে যে জয়ী হোক না কেন, তা সব সাস্টিয়ানেরই জয় হবে।’
ছাত্রদল–সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচন হচ্ছে, তা অনেক আনন্দের। তবে আন্দোলনের কারণে যে প্রচারণায় যে ব্যাঘাত ঘটেছে, এর দায়ভার অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অনেকেই প্রচারণা করতে পারেনি। সবশেষে নির্বাচন আয়োজন হচ্ছে—এটাই আনন্দের।’