
‘আমি তোমার এসপি বলছি, আমি খুব বিপদে পড়েছি। আমাকে দুই লাখ টাকা পাঠাও।’ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের ‘নম্বর’ থেকে আসা ফোনে এভাবেই টাকা দাবি করা হয় সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল আহমেদের কাছে। তবে পুলিশ সুপারের কণ্ঠের সঙ্গে মিল না পাওয়ায় সন্দেহ হয় তাঁর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষয়টি ছিল প্রতারণা।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার সীতাকুণ্ড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এসআই সোহেল আহমেদ। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি তোফায়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার (ডিউটি অফিসার) সরকারি মুঠোফোনে অবিকল চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের সরকারি নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। পুলিশ সুপারের ফোন নম্বরের আগে কান্ট্রি কোড +৮৮–এর জায়গায় +৩৮ ছিল। দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফোনটি রিসিভ করার পর তাঁকে পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, থানায় এই মুহূর্তে কতজন এএসআই ডিউটিতে আছেন এবং কোন স্থানে আছেন। এরপর তাঁদের ফোন নম্বর চান।
ওসি বলেন, ডিউটি অফিসার ডিউটিতে থাকায় এএসআইদের ইনচার্জ সোহেল আহমেদের ফোন নম্বর দেন। বিষয়টি ডিউটি অফিসার তাঁকে জানান। পরে তিনি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন এ ধরনের ফোন পুলিশ সুপার করেননি। কোনো এক প্রতারক ফোনটি করেছে।
ওসি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর এসআই সোহেল আহমেদ তাঁকে টাকা চাওয়ার ঘটনাটি জানান। ওই ব্যক্তির কণ্ঠ পুলিশ সুপারের সঙ্গে মিলে নেই কেন বলার পর এসআই সোহেলকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন ওই ব্যক্তি। পরে গতকাল এসআই সোহেল সীতাকুণ্ড থানায় একটি জিডি করেন।
প্রতারকেরা প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, জেলা প্রশাসকের ফোন নম্বরও ক্লোন করে একইভাবে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মচারীর কাছে টাকা দাবি করছে এক প্রতারক। পুলিশ তাদের ধরতে কাজ শুরু করেছে।