পাবনা জেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী পদে মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতার নিয়োগ পরীক্ষায় ১৮ জন চাকরি প্রাপ্তর ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। গত বৃহস্পতিবার সকালে নিয়োগপ্রাপ্তদের হাতে নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন পাবনা জেলা প্রশাসক
পাবনা জেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী পদে মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতার নিয়োগ পরীক্ষায় ১৮ জন চাকরি প্রাপ্তর ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। গত বৃহস্পতিবার সকালে নিয়োগপ্রাপ্তদের হাতে নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন পাবনা জেলা প্রশাসক

এসএসসি যোগ্যতার অফিস সহায়ক পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ পাসসহ উচ্চশিক্ষিতরা

পদের নাম অফিস সহায়ক। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত। কেউ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা এমবিএ কিংবা অন্যান্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস। অফিস সহায়কের ১৮টি পদে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। পাবনা জেলা প্রশাসনের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ এটিকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্যদশার চিত্র হিসেবে উল্লেখ করছেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ অক্টোবর অফিস সহায়কের ১৮টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জাতীয় বেতন স্কেলে এই পদ ২০তম গ্রেডের। আগে পদটির নাম ছিল এমএলএসএস এবং যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস, পদটি পিয়ন পদ হিসেবে পরিচিত।

এতে দুটি দিক মনে হয়েছে। একটি হচ্ছে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে। অন্যটি হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্যদশা। সার্টিফিকেট–সর্বস্ব শিক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোবল তৈরি হচ্ছে না। এ কারণেই এমন হচ্ছে।
মো. আব্দুল আলীম, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রায় আট হাজার চাকরিপ্রার্থী পদটিতে আবেদন করেন। ১৯ জুন চাকরিপ্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় চার হাজার চাকরিপ্রার্থী উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরদিন মৌখিক পরীক্ষায় ১৮ জনকে চূড়ান্ত করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রের দাবি, কোনো ধরনের তদবির, চাপ ও অর্থ লেনদেন ছাড়াই মেধার ভিত্তিতে ১৮ প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য নিয়োগ পাওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে পাবনা সদর উপজেলার দিলালপুর মহল্লার ওয়ালিয়েল রাদ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার পাস। জেলার চাটমোহর থেকে নিয়োগ পেয়েছেন সুজন মিয়া। তিনি পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাস করেছেন।

এ ছাড়া নিয়োগ পাওয়া ঈশ্বরদীর উজ্জ্বল হোসেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করা। জেলা সদরের রাকিবুল ইসলাম সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। সদর উপজেলার শাঁখারীপাড়া মহল্লার আলতাব হোসেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। বেড়া উপজেলার ইয়া খাতুন ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে কেমিস্ট্রিতে মাস্টার্স পাস। একই উপজেলার রাকিব হোসেন ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে মাস্টার্সসহ নিয়োগ পাওয়া ১৮ জনের ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত।

গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পাওয়া এই ১৮ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। এ সময় তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হতেই শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।

ফেসবুকের একটি পোস্টে আলী মোরতোজা নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এসএসসি পাশ করে যাঁরা আর পড়তে পারেন না, এই চাকরিটা তাঁদের জন্য ছিল। তাই এই নিয়োগ স্বচ্ছ বলা যায় না। এই নিয়োগে অন্যের হক নষ্ট করা হয়েছে।’ এস এম নুরুন্নবী নামের অপর একজন লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতি উদ্যোক্তা তৈরি করে না।’

তবে সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এই নিয়োগে জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই নিয়োগের প্রক্রিয়া আমার কর্মজীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। পুরো প্রক্রিয়াটিতে কোনো সুপারিশ বা চাপ ছিল না। যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরা তাঁদের যোগ্যতায় নিয়োগ পেয়েছেন। এটাই একটি ভালো লাগার বিষয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। এতে দুটি দিক মনে হয়েছে। একটি হচ্ছে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে। অন্যটি হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্যদশা। সার্টিফিকেট–সর্বস্ব শিক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোবল তৈরি হচ্ছে না। এ কারণেই এমন হচ্ছে।’