
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শামসুন নাহার রুমা নামের এক স্কুলশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর লাশ হাত-পা বাঁধানো অবস্থার পাশাপাশি গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল।
নিহত শামসুন নাহার উপজেলার চণ্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের শিক্ষক সোলাইমান আলীর মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ছয় বছর আগে স্বামীর সঙ্গে শামসুন নাহারের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর এক ছেলেসন্তানকে (১২) নিয়ে বাবার মালিকানাধীন ওই বাসায় বসবাস করছিলেন ওই স্কুলশিক্ষিকা। পড়াশোনার জন্য ছেলে ঢাকায় থাকে। এ কারণে শামসুন নাহার একাই ওই বাসায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে শামসুন নাহার নিজ বাসায় ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন না। কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। এরপর পাশের বাসার লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান ঘরের দরজা খোলা এবং হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ক্রাইম সিন কাজ করছে। এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।