
পটুয়াখালী–২ আসনে (বাউফল) উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থীর মিছিলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ধাওয়ায় উভয় পক্ষের আরও ১০ জন আহত হন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই জামায়াতের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আনিচুর রহমান (৫৫) ও সেক্রেটারি মো. আমিনুল। ২৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত মোসা. লিয়া জাহান (২৫), জামাল মৃধা (২২), দেলোয়ার হোসেন গাজীকে (৪৫) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দেলোয়ার হোসেন ছাড়া বাকি দুজন জামায়াতের কর্মী।
আসনটিতে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম (মাসুদ), বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদার। আসনটিতে মোট পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই হবে বলে অনুমান স্থানীয় ব্যক্তিদের।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা আজ সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ফিরছিলেন। বেলা একটার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হাওলাদার ও শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে তাঁদের মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কমপক্ষে ৪০ ব্যক্তি আহত হন।
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আনোয়ার হোসেন ও শ্রমিক দল নেতা কামাল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন বলে জানান।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল পৌনে চারটার দিকে উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর শামীম নামের এক সমর্থককে জামায়াতের লোকজন মিলে চড়থাপ্পড় দিয়ে মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হন।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁরা মিছিল শেষ করে ফেরার পথে পেছন দিক থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নেতা-কর্মীদের আহত করা হয়। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে চন্দ্রদ্বীপে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
ঘটনার পর জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা ওসির প্রত্যাহার দাবিতে বাউফল থানার সামনের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত তাঁরা থানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধিকতর গুরুত্বসহকারে দেখছে।