
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে দ্বিতীয় দফায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন স্থানে আরও ১২০ শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বলগুলো তুলে দেওয়া হয়। কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেড।
সকালে রাজবাড়ী পৌরসভার নুরপুর, বিনোদপুর, সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত ও সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এসব কম্বল দেওয়া হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।
কম্বল পেয়ে হাসি ফুটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর থেকে আসা বৃদ্ধ আবু তালেবের (৭০)। তিনি বলেন, ‘এই যে টাল যাচ্ছে বাবা, কেউ একডা কম্বল দেয় নাই। তোমরাই পরথম আমারে একডা কম্বল দিলা। হুনি কতজন কত জায়গায় কম্বল দিচ্ছে। আমার ভাগ্যে মেলেনি। রাইতের বেলায় টালে ঠিকমতো ঘুমাইতেও পারি না। আজকে কম্বলডা পাইয়া একটু আরামে ঘুমাইতে পারমু।’
সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চরবেনিনগর এলাকা থেকে আসা ময়না বেগম (৬০) বলেন, ‘আমাগোর বাড়ি অনেক আগে নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। পরে মাইছাঘাটায় কোনরহম বাড়ি কইরা আছি। শুক্রবার আমারে কইল পরথম আলো থেইকা কম্বল দিব। তাই আজ স্লিপ নিইয়া কম্বল নিতে আইছি। কম্বলডা পাইয়া আমার অনেক উপকার হইল।’
সকাল ১০টার দিকে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকায় সদর উপজেলার নুরপুর, বিনোদপুর, সজ্জনকান্দা ও মিজানপুর ইউনিয়নের চরবেনিনগর এলাকার শীতার্ত ৭০ জনের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
দুপুরে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের বরাট দেওয়ান মো. ইসহাক হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ স্থানীয় আরও ৫০ জনের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। কম্বল বিতরণে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন প্রথম আলো রাজবাড়ী বন্ধুসভার সদস্যরা।
বরাট দেওয়ান মো. ইসহাক হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান মিয়া বলেন, ‘এখানে ছেলে–মেয়েসহ ৬০ শিক্ষার্থী আছে। অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং শীতে রাতের বেলায় অনেকে কষ্ট করে। এ বছর একটি শীতবস্ত্রও কেউ দেয়নি। অথচ আমরা প্রত্যাশা করিনি প্রথম আলো পত্রিকা আমাদের পাশে দাঁড়াবে। আল্লাহপাক যেন এই দান কবুল করেন।’
কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো রাজবাড়ী প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, বন্ধুসভার সভাপতি ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুরজিত চক্রবর্তী, বরাট দেওয়ান মো. ইসহাক হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক হাফেজ মো. তোফাজ্জেল হোসেন, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, সমাজসেবক মো. জাহিদুন্নবী, রাজবাড়ী বন্ধুসভার সহসভাপতি ও রাজবাড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হেলাল মাহমুদ, বেসরকারি সংস্থা নাসার নির্বাহী পরিচালক বন্ধুসভার সদস্য মনিরুজ্জামান সোহেল, লামিয়া তাহসিন, মইনুল হক, শাহিন আবদুল্লাহ প্রমুখ।
শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে।
হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট বা ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭২০০১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।
পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।