
গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শ্রীপুর-মাস্টারবাড়ি আঞ্চলিক সড়কের দক্ষিণ ভাংনাহাটি এলাকায় লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনরত কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। ওই দিন বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আজ সকালেও শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু দুপুরের পরও বেতন পরিশোধ না হওয়ায় বিকেলে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক শ্রমিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘একাধিকবার আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে।’ আরেক শ্রমিক নাজমুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আগেও কয়েকবার বকেয়া বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কথা রাখা হয়নি। কাজ করেও বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সূত্র জানায়, আহত অন্তত ১৬ জন শ্রমিক সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শিল্প পুলিশের শ্রীপুর সাব-জোনের ইনচার্জ আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রাবার বুলেট ব্যবহারের বিষয়টি তিনি জানেন না এবং কোনো শ্রমিক আহত হওয়ার বিষয়েও তাঁর কাছে তথ্য নেই। সংঘর্ষের সময় কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে স্বাভাবিক হয়।