চিংড়ির ঘের নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে প্যারাবন। সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দীপে
চিংড়ির ঘের নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে প্যারাবন। সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দীপে

চার বছরে সোনাদিয়ার ৭ হাজার একর প্যারাবন উজাড়, দখলে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সোনাদিয়া দ্বীপে গত চার বছরে অন্তত সাত হাজার একর প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ বন) উজাড় করা হয়েছে। বনভূমি দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ৮২টি চিংড়িঘের। বছরের ছয় মাস এসব ঘেরে চিংড়ি চাষ এবং বাকি সময় লবণ উৎপাদন করা হচ্ছে। প্যারাবন দখলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিএনপি, জামায়াত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্যারাবন ধ্বংস ও দখলের ঘটনায় করা একাধিক মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

কক্সবাজার শহর থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তরে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত সোনাদিয়া দ্বীপ লাল কাঁকড়া, কাছিম ও বিরল প্রজাতির পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। দ্বীপটির পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় ২০০৬ সালে একে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। আইন অনুযায়ী, সোনাদিয়ার মাটি, পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা বাণিজ্যিক রূপান্তর নিষিদ্ধ। তবে ইকোট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ১ হাজার ১ টাকার বিনিময়ে সোনাদিয়ার ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর বনভূমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে অন্তত আট হাজার একর ছিল প্যারাবন।

২০১৭ সালের মে মাসে বেজা উপকূলীয় বন বিভাগের কাছ থেকে জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। কিন্তু এরপর সেখানে ইকোট্যুরিজম প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। এই সুযোগে গত চার বছরে বেজার অধীনে থাকা অন্তত সাত হাজার একর বনভূমি উজাড় করে চিংড়িঘের নির্মাণ করেছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এ সময় কাটা হয় ৪৬ লাখের বেশি বাইন, কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছ।

প্যারাবন উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের আঘাত থেকে এটি সোনাদিয়া ও মহেশখালীকে দীর্ঘদিন রক্ষা করেছে। বন না থাকায় ভবিষ্যতে বড় কোনো ঘূর্ণিঝড়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
—মকবুল আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মহেশখালী ডিগ্রি কলেজ

পরিবেশকর্মীদের ভাষ্য, বনভূমি দখলের জন্য রাতের আঁধারে পেট্রল ঢেলে গাছে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য ও পাখির আবাসস্থল। একসময় সোনাদিয়ার প্যারাবনে ২৫০ প্রজাতির মাছ, ১৫০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ৫০ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪০ প্রজাতির চিংড়ি, ১৭০ প্রজাতির পাখি, ৫০ প্রজাতির বালিয়াড়ি উদ্ভিদ এবং ১৫ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের অস্তিত্ব ছিল। পাশাপাশি ডলফিন, সামুদ্রিক কাছিম, মেছো বাঘ, শিয়াল, সাপ, গুইসাপসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীরও আবাস ছিল সেখানে। তবে দখলের কারণে এসব হারিয়ে যাচ্ছে।

যেভাবে চলছে বাণিজ্য

গত বুধবার সোনাদিয়া দ্বীপে গিয়ে দেখা যায়, প্যারাবন উজাড় করে তৈরি করা চিংড়িঘেরগুলোতে এখন লবণ চাষ হচ্ছে। উৎপাদিত লবণ বস্তাবন্দী করে নৌকায় তোলা হচ্ছে।

লবণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, লবণের মৌসুম প্রায় শেষ। এখন এসব জমিতে সাগরের লোনাপানি এনে চিংড়ি চাষ করা হবে। আবার নভেম্বর-ডিসেম্বরে চিংড়ি বিক্রি শেষ হলে একই জমিতে শুরু হবে লবণ উৎপাদন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার একর প্যারাবন দখল করে ৪৫টির বেশি চিংড়িঘের নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ৭ হাজার একর এলাকায় মোট ৮২টি চিংড়িঘের রয়েছে।

স্থানীয় লবণচাষি আবদুল গণী জানান, কয়েকজন অংশীদার মিলে ৩০ কানি জমিতে লবণ চাষ করেছেন। প্রতি কানি (৪০ শতক) জমির জন্য এক মৌসুমে ৪০ হাজার টাকা হারে মোট ১২ লাখ টাকা ‘ইজারা’ দিতে হয়েছে দখলদারদের। এ পর্যন্ত লবণ বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ১৩ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন লবণচাষি বলেন, প্যারাবনের দখলকারীদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। মামলার পরও তাঁরা দখল ছাড়েননি; বরং অবৈধভাবে দখল করা জমি ইজারা দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, লবণ মাঠের আশপাশে এখনো প্রায় এক হাজার একর জমি খালি পড়ে আছে। সেখানে শত শত বাইন ও কেওড়াগাছের গোড়া দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সম্প্রতি এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দ্বীপের উত্তর ও পশ্চিম অংশে সামান্য কিছু প্যারাবন টিকে থাকলেও সেখানেও দখলের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় লবণশ্রমিক রাহমত উল্লাহ বলেন, প্রতিটি চিংড়িঘেরের আয়তন ১০০ থেকে ১৫০ কানি পর্যন্ত। সোনাদিয়ার লবণচাষি আনোয়ার হোসেন ও আবদুল কাদের বলেন, এক দশক আগেও দ্বীপে ১০ হাজার একরের বেশি ঘন প্যারাবন ছিল। শত শত মানুষ মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু গত চার বছরে সাত হাজার একরের বেশি বন ধ্বংস করে সেখানে লবণ ও চিংড়ি চাষ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

মহেশখালী ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মকবুল আহমেদ বলেন, ‘প্যারাবন উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের আঘাত থেকে এটি সোনাদিয়া ও মহেশখালীকে দীর্ঘদিন রক্ষা করেছে। বন না থাকায় ভবিষ্যতে বড় কোনো ঘূর্ণিঝড়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

একটি বেসরকারি সংস্থার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক আবদুল কাইয়ুম বলেন, মাত্র পাঁচ বছর আগে তিনি সোনাদিয়ায় প্রায় আট হাজার একরের ঘন প্যারাবন দেখেছিলেন। এখন সেখানে চোখে পড়ে শুধু চিংড়িঘের ও লবণ মাঠ।

দখলে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চার বছর আগে সোনাদিয়ার পশ্চিমাংশে প্রায় ৩ হাজার একর প্যারাবন উজাড় করে ৩৭টি চিংড়িঘের নির্মাণ করেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ২০০৪ সালের মার্চে প্যারাবন দখলকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার একর প্যারাবন দখল করে ৪৫টির বেশি চিংড়িঘের নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ৭ হাজার একর এলাকায় মোট ৮২টি চিংড়িঘের রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে কুতুবজোম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী সোনাদিয়ার পশ্চিম পাড়ায় প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়িঘের নির্মাণ করেন। পূর্ব পাড়ায় বড় চিংড়িঘের নির্মাণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও মোহাম্মদ হোসেন। তাঁদের ঘেরের পাশে আরও কয়েকটি ঘের নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য একরাম মিয়া এবং বাসিন্দা ইমতিয়াজ উদ্দিন, আবদুল মোনাফ ও আজিজুল হকের বিরুদ্ধে।

তবে আলমগীর চৌধুরী প্যারাবন দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘আমি চিংড়িঘের নির্মাণের সঙ্গে জড়িত নই। তবে তাজিয়াকাটার দিকে ২০ একরের একটি পুরোনো চিংড়িঘের আছে আমাদের, যা মূলত আমার বাবার ক্রয়সূত্রে পাওয়া।’ একইভাবে ইউপি সদস্য একরাম মিয়াও প্যারাবন ধ্বংসের অভিযোগ নাকচ করেছেন।

গত বছরের ২৩ অক্টোবর উচ্চ আদালত সোনাদিয়া ও আশপাশের ঘটিভাঙ্গা, তাজিয়াকাটা ও হামিদার দিয়া এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস বন্ধ এবং অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী জাকিয়া সুলতানা বলেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের তৈরি ও বহাল রাখা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।

মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই

গত ১৭ মে সোনাদিয়ার প্যারাবন ধ্বংস ও জীববৈচিত্র্য বিনষ্টের অভিযোগে বিএনপি নেতা আলমগীর চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলার অধিকাংশ আসামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মী। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামাল, তাঁর ছোট ভাই শেখ আলমগীর; কুতুবজোম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি আবুল কালাম, তাঁর ভাগনে আবদুল মোনাফ; স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইমতিয়াজ উদ্দিন; সোনাদিয়া দ্বীপের ইউপি সদস্য একরাম মিয়া; আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ শমসের উল্লাহ; ঘটিভাঙ্গা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক; উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা আনোয়ার প্রমুখ।

প্যারাবন উজাড় করে গড়ে তোলা মাঠ থেকে উৎপাদিত লবণ নৌকায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সোনাদিয়া দ্বীপে

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সোনাদিয়ার প্যারাবন নিধনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫৩ দখলদারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

গত ২ এপ্রিল উপকূলীয় বন বিভাগও বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের ৩০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে। বন বিভাগের দাবি, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁদের আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা ছৈয়দুল হক সিকদার, মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল করিম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মকছুদ মিয়ার ছোট ভাই কাইসার সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরীর ছেলে মোস্তফা আনোয়ার ও মহসিন আনোয়ার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই মোহাম্মদ শাহেদ।

মামলার অন্যতম আসামি ও কুতুবজোম ইউপির চেয়ারম্যান শেখ কামাল বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত কোনো চিংড়িঘের নেই এবং প্যারাবন নিধনের সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁকে হয়রানির জন্য মামলায় জড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উপকূলীয় বন বিভাগের গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিতর্কিত ইজারা বাতিল করে জমি পুনরায় বন বিভাগের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা হয়েছে। জমি বুঝে পাওয়া গেলে নতুন করে প্যারাবন সৃজনের কাজ শুরু হবে।

১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আয়

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিবছরের জুন থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। গত মৌসুমে উৎপাদিত চিংড়ি বিক্রি করে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। অন্যদিকে নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় তিন লাখ মণ লবণ। প্রতি মণ ৩০০ টাকা ধরে এর বাজারমূল্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিবছর সরকারি বনভূমি অবৈধভাবে ব্যবহার করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় করছে দখলদার চক্র। সেই হিসাবে গত চার বছরে এ আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’র কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর অভিযোগ, চিংড়ি ও লবণ বিক্রির এই বিপুল অর্থ দখলদার ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। এ কারণেই অবৈধ চিংড়িঘেরগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান দেখা যায় না।