
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারের অভিযোগে যুবদলের ২৬ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশ যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না) ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (নয়ন) ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বহিষ্কৃত যুবদল নেতারা হলেন নিকলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম (সোহেল), যুগ্ম আহ্বায়ক নকিবুল হাসান (রাজন), কারার ইকতার আহমেদ (আরিফ), সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন, মনছুর আলী, বাজিতপুর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মোস্তফা আলী জাহাঙ্গীর, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওয়াসিমুল হক, মো. হামিদুল ইসলাম, সুজন বণিক, আইনজীবী খায়রুল ইসলাম, মো. রানা শিকদার, সদস্য মো. শাহিন মিয়া, শেখ রাফিদ, উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নেছার আহমেদ, গাজিরচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক, হালিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. সোহাগ মিয়া, সরারচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. শাহ সুমন, সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মিয়া, হিলচিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মোবারক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াদ হোসেন, কৈলাগ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক, হুমায়ুনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, বলিয়ারদী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জুলহাস। এ নিয়ে তিন দফায় বিদ্রোহী প্রার্থীসহ মোট ৫৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি ছিলেন। তাঁর দল বিএনপি জোটের শরিক। কিন্তু নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে আসনটিতে প্রার্থী হয়েছেন এহসানুল।
আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান (ইকবাল)। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাঁকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি হাঁস প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে তাঁর পক্ষে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ কাজ করছে।
এ বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘বহিষ্কার করে আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’ অন্যদিকে সৈয়দ এহসানুল হুদার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান মো. কাজল ভূঞা বলেন, ধানের শীষ বিএনপির প্রতীক। এর বিরোধিতা যে করবে, তাকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
আসনটি থেকে জামায়াতের প্রার্থী কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. রমজান আলী, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন (হারিকেন) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. অলি উল্লাহ (মোমবাতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।