জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লা খান, জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমানের নাম।

দেশের বৃহত্তম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। নির্বাচনে ঘুরেফিরে আসছে একটি প্রশ্ন, মেয়র পদে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। মনোনয়ন পেতে এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের প্রায় এক ডজনের বেশি নেতা মাঠে নেমেছেন। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তাঁদের সমর্থনে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, পোস্টার ও বিলবোর্ড।
তবে যাঁদের নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে, তাঁরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান। এর বাইরে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মতিউর রহমান, নগরের গাছা অঞ্চলের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, আরএসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মেজবাহ্ উদ্দিন সরকার ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল বলেন, ‘যে কেউ দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সবার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। তাঁরা সব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রার্থী বাছাই করবেন। আমরা সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।’
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। দলে আমার যে পারফরম্যান্স এবং তিনবার পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি মানুষের জন্যই কাজ করেছি।আজমত উল্লা খান, সভাপতি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। ওই সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন জাহাঙ্গীর আলম। নানা নাটকীয়তায় ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে জাহাঙ্গীর নির্বাচন থেকে সরে আসেন। তাতেও লাভ হয়নি আজমত উল্লা খানের। হেরে যান তিনি। ওই নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রয়াত নেতা এম এ মান্নান।
২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান জাহাঙ্গীর আলম। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিষয়ে জাহাঙ্গীরের বিতর্কিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। সাময়িক বরখাস্ত করা হয় মেয়র পদ থেকে। জাহাঙ্গীরের অপরাধ সম্প্রতি ক্ষমা করেছে আওয়ামী লীগ। সেই থেকে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি আবারও প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মানুষের অপপ্রচারের কারণে আমাকে খেসারত দিতে হয়েছে। দলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়েছে। দলে ফিরেছি। নির্বাচন করতে আইনগত কোনো বাধা–নিষেধ নেই।জাহাঙ্গীর আলম, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন
স্থানীয় নেতা–কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরেই দল এবং নগরবাসীর মধ্যে বেশি আলোচনা চলছে। জাহাঙ্গীর আলমও মনে করেন দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে এবারও বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘মানুষের অপপ্রচারের কারণে আমাকে খেসারত দিতে হয়েছে। দলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়েছে। দলে ফিরেছি। নির্বাচন করতে আইনগত কোনো বাধা–নিষেধ নেই। নগরের জনগণ আমার সঙ্গে আছেন। তাই এবারও আমি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব ইনশা আল্লাহ।’
গাজীপুরের অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। দীর্ঘদিন টঙ্গী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা মেয়র নির্বাচনে একবার হারলেও এবার তিনি আশাবাদী।
আজমত উল্লা খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। দলে আমার যে পারফরম্যান্স এবং তিনবার পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি মানুষের জন্যই কাজ করেছি। অতীতে আমার সব রেকর্ড ভালো, এ জন্য দল থেকে পরীক্ষিতভাবে সততার সাটিফিকেটও পাওয়ার যোগ্যতা রাখি।’
জাহাঙ্গীর মেয়র পদে সাময়িক বরখাস্ত করার পর ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে যাচ্ছেন নগরের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুর রহমান ওরফে কিরণ। এর আগেও তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে এবার তিনি মেয়র পদে লড়তে চান তিনি। আসাদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দলের বড় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই তিনি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নগরের বাসিন্দা কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে একজন সৎ, দক্ষ ও জনদরদি মেয়র চান তাঁরা, যিনি গাজীপুর শহরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলবেন, দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন। চলমান উন্নয়ন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা ও নাগরিকদের সেবা অব্যাহত রাখতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ মে। নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম দাখিলের শেষ সময় ২৭ এপ্রিল। মনোনয়ন ফরম বাছাই ৩০ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৯ মে এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৩, নারী ভোটার ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮১২ ও হিজড়া ভোটার ১৮ জন।