
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মৌন মিছিলের সময় যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিওগ্রাফার, একটি সংবাদপত্রের ফটোসাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরিত হয় চারটি ককটেল। একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর বিএনপি মৌন মিছিলের আয়োজন করে। বিকেল চারটার দিকে শহরের বালুমাঠ এলাকা থেকে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিএনপির কর্মসূচিস্থলে আসেন। এ সময় চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। একপর্যায়ে বিএনপির দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় একটি মোটরসাইকলে ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় নেতা–কর্মীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। পুলিশ বিএনপির নেতা–কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে দুটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে সময় টেলিভিশনের ভিডিওগ্রাফার আরিফ হোসেন, ৭১ টিভির ভিডিওগ্রাফার জামিল হোসেন উল্লাস, সমকালের ফটোসাংবাদিক মেহেদী হাসানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আরিফ হোসেন বলেন, ‘যুবদলের কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র সংঘর্ষে জড়ায়। পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে মারধর করে। ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা করে।’
জামিল হোসেন বলেন, বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে মুখোশধারীসহ সশ্রস্ত্র একদল লোক হামলা চালান। চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও করার সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন। পুলিশের সামনে মারধর করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন নেতা–কর্মী জানান, মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদল এবং জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। যুবদলের ওই কমিটি ঘোষণা নিয়ে উত্তেজিত মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটি সদস্য মাজহারুল ইসলাম ওরফে জোসেফ এবং নতুন কমিটির সদস্যসচিব শাহেদ আহমেদের পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে মনিরুল ইসলাম ওরফে সজলকে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে সাগর প্রধানকে এবং সদস্যসচিব করা হয় শাহেদ আহমেদকে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু) ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন।
বিলুপ্ত মহানগর যুবদলের কমিটির ১ নম্বর সদস্য মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা বিগত দিনে হামলা, মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রে লবিং করে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর লোকজন উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। অনুসারীদের থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে স্বীকার করেন মাজহারুল।
এ বিষয়ে সদ্য ঘোষিত মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব শাহেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করায় জোসেফের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে কর্মসূচীতে রিকশায় থাকা মাইক ভাঙচুর শুরু করলে নেতা–কর্মীরা তাদেরকে প্রতিরোধ করেছে। তিনি বলেন, বিগত দিনে জোসেফদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিতর্কিত থাকায় দল তাদেরকে পদ দেয়নি। এ কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির মৌন মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। সেখানে বিএনপির নেতা–কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিলেন। কর্মসূচি পালনের একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তাঁরা গাড়ি ভাচুর করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে।
কমিটি ঘোষণা নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর দাবি, সরকারি দলের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন।