
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে তিন নারীর চুল কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। সোমবার দুপুরে উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই তিন নারী বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থানায় আছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মধ্যবয়সী এ তিন নারীর মধ্যে দুজনের বাড়ি খুলনায়। আরেকজন কুমিল্লার বাসিন্দা। তাঁরা রূপগঞ্জেই থাকতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন। তবে রূপগঞ্জের কোথায় থাকতেন, কী কাজ করতেন, তা এখনো জানা যায়নি।
মেহেদী ইসলাম আরও বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলার ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে সোনার চেইন চুরির অভিযোগে ওই তিন নারীকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় সেলিম মিয়াসহ তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন মিলে তিন নারীর চুল কেটে দিয়ে তাঁদের মারধরও করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন নারীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৭ সেকেন্ড ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পওয়া ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও চিত্র প্রথম আলোর হাতে এসেছে।
১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে হাত বাঁধা তিনজন নারী। এক ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে এক নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। তখন এক নারী চুল না কাটার আকুতি জানিয়ে বলছেন, ‘বাবা, চুলডি কাইট্টো না, বাবা।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তরে পুশকুনিতে (পুকুরে) ফালাইয়া দিমু। চুল থাকলে তোর ঠান্ডা লাইগা যাইব। তোরে পুশকুনিত ফালাইয়া মারমু। এমনে মারমু না।’ তখন ওই তিন নারী বারবার চুল না কাটার জন্য আকুতি জানাতে থাকেন।
আরেকটি ভিডিওতে ওই তিন নারীকে একটি ভবনের ভেতর বেঁধে রাখতে দেখা যায়৷ সেখানে স্থানীয় শিশুদের সামনেই কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক যুবক ও আরেক নারীকে দেখা যায় ওই তিন নারীকে মারধর করতে।
ঘটনার বিষয়ে সেলিম মিয়া দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় ওই তিন নারী ধরা পড়েন।
তবে পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম বলেন, পুলিশের কাছে ওই তিন নারী চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কাজের খোঁজে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। ওই তিন নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘চুরি অপরাধ, কিন্তু সে ক্ষেত্রে আইন কারও হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। এমনকি বেঁধে মারধর ও চুল কেটে ফেলাও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ক্ষেত্রে চাইলে উভয়পক্ষ অভিযোগ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে।’ রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান মেহেদী ইসলাম।