
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। মা–বোনদের অপমান করা হচ্ছে। আমি তার প্রতিবাদ করি। এখন আমার পেছনে লেগেছে। অনেক কিছু রটানো হচ্ছে। সামনে থেকে মোকাবিলা করার সাহস নেই। কিন্তু পেছনের লোকেরা ইনশা আল্লাহ পেছনে পড়ে থাকবে, সামনে যেতে পারবে না। ওরা পেছনে থেকে জাবর কাটবে, সিংহপুরুষের মতো সামনে যাওয়ার সাহস ওদের নেই। আহ্বান জানাই, নিজের আদর্শ, কর্মসূচি, পরিকল্পনা, বক্তব্য নিজের চরিত্রে নিয়ে আসুন।’
আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, ডাকসুর জিএস মোহাম্মদ ফরহাদ, কক্সবাজার জামায়াতে ইসলামীর আমির ও উখিয়া-টেকনাফ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার সদর-রামু-ঈদগাঁও আসনের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর প্রমুখ।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, অনেকে অনেক কিছু রটায়-ঘটায়। কারা এসব করে? যখন দেখে চতুর্দিকে অন্ধকার, তখন দিশাহারা হয়ে যায়। কী বলবে, কী করবে—হিসাব খুঁজে পায় না। কিন্তু মনে রাখবেন, এ দিয়ে জনগণের ভালোবাসার জোয়ার ঠেকানো যাবে না। জনগণের দেহের ওপর চাবুক মারতে পারবেন, মনের ওপরে চাবুক মারতে পারবেন না।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে টেনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, কেউ কেউ বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের টুঁটি চেপে ধরবেন। সঙ্গে ঋণখেলাপি রেখে আপনি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ করবেন?
জনসভায় নেতা-কর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা পুরোনো রাজনীতির পক্ষে নই, ফ্যাসিবাদের পক্ষে নই; যারা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না, তাদের পক্ষে নই। জনগণও তাদের সেটা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু, আপাতত জাকসুতে এসে ঠেকেছে। তারা এখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। যেখানেই এখন নির্বাচন, সেখানেই এখন হারু পার্টি। হারার ভয়ে এখন সব নির্বাচন ঠেকিয়ে দেয়। জোর করে মানুষের মন দখল করবেন? হবে না।’
জামায়াতের আমির মঞ্চে ওঠার আগে বক্তব্য দেন এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতু। বক্তব্য তিনি বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন। সে প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাহমুদা মিতু কিছু কথা বলে গেছেন। তাঁকে নিয়ে বুলিং করা হচ্ছে। অপমান করা হচ্ছে। তিনি কে? জুলাই যোদ্ধা। তাঁদের কারণেই তো আজ অনেকে জেল থেকে বের হয়ে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের কারণে অনেকে দেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। আজ সেই উপকারীকে আপনি উপহাস করেন? এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে ইনশা আল্লাহ। আমরা এই মিতুদের কথা দিচ্ছি, ১৩ তারিখ থেকে নতুন একটি বাংলাদেশ পাবে জনগণ। সেদিন আমাদের মায়েদের মাথার ওপরে তুলে মর্যাদা দেব ইনশা আল্লাহ। তাদের ঘরে, কর্মস্থলে সব জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা রাস্তায় নেমে বলেননি, আমাদের বেকার ভাতা দেন। তাঁরা বলেছেন, “আমাদের কাজ দিন। আমার পাওনা কাজ আমার হাতে তুলে দিন। মামা–খালুর টেলিফোন আর কোটায় আমার নিজের মেধা যেন হারিয়ে না যায়”—এই ছিল তাঁদের দাবি। “আমার মেধা–যোগ্যতা অনুযায়ী আমার যে প্রাপ্য সেটা আমার হাতে দিন।” আমরা যুবকদের পরিষ্কার বলছি, হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমানিত করব না। আমরা তাদের প্রত্যেকটা হাতকে মজবুত করে গড়ে দেব। দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ তুলে দিয়ে বলব, এবার আগাও। এ দেশ তোমার, এবার চিৎকার দিয়ে বলো, “আমিই বাংলাদেশ।’”
কক্সবাজারের পর আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এ সি এম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াত আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। এর আগে বেলা সোয়া দুইটার দিকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার উপজেলার বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে অবতরণ করে। জনসভায় এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতের নায়েবে আমির শামসুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে দলের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এবং ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে নির্বাচনী সফর উপলক্ষে আজ পাঁচটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের। লোহাগাড়ার পদুয়া মাঠের জনসভার আগে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী ও জেলা সদরে আয়োজিত দুটি জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর বিকেলে সীতাকুণ্ড হাইস্কুল মাঠ এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে জনসভায় অংশ নেবেন।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন প্রথম আলোর লোহাগাড়া প্রতিনিধি)