গোপালগঞ্জে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে
গোপালগঞ্জে  দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।  গতকাল রাতে

ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক ঘিরে কোটালীপাড়ায় সংঘর্ষ, আহত ২০

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলার ঘাঘরকান্দা-ব্যাপারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘাঘরকান্দা-ব্যাপারীপাড়া গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা ব্যাটারি চুরির অভিযোগে উপজেলার কাঠিগা গ্রামের মোরসালিন মিয়া, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া এবং ঘাঘরকান্দা গ্রামের আবদুল্লাহ দাড়িয়াকে আটক করেন। পরে তাঁদের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির কার্যালয়ে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কাঠিগা ও চিতশী গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় মাদকবিরোধী কমিটির কার্যালয় ও আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক তিন যুবককে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘাঘরকান্দা-ব্যাপারীপাড়া গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে ব্যাটারি চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু কাঠিগা ও চিতশী গ্রামের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়, কার্যালয় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিতশী গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকজনকে মারধর করা হয়েছে। আমরা কাউকে হামলা বা মারধর করিনি।’

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’