উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রোববার বেলা তিনটায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রোববার বেলা তিনটায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নীলফামারীতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় লালমনিরহাটের দোয়ানীতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিস্তায় পানি বাড়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১৫টি চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেনি।

ডিমলায় পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের দোয়ানীতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি আজ সকাল ছয়টায় ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ৫১ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ৫১ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার এবং বেলা তিনটায় ৫২ দশমিক শূন্য ৩ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। সবশেষ সন্ধ্যা ছয়টায় পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিন ঘণ্টায় এখানে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ সেন্টিমিটার। দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

ডিমলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পানি খুব ধীরগতিতে বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে বাড়ার পর আবার নেমে যাচ্ছে। এখন পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে এখনো চরের বাড়িঘরে পানি ওঠেনি। পূর্ব ছাতনাই ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, ‘পানি সকাল থেকে বাড়ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।’

পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ছে। আজ সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা ৩টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সর্বশেষ সন্ধ্যা ছয়টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি বলেন, রাতে পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।