
টানা লোকসান, কাঁচামাল–সংকট ও ঋণপত্র (এলসি) জটিলতায় স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড কারখানার তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে মঙ্গলবার তাঁরা ভুখামিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
সকালে নগরের রূপাতলী গ্যাস টারবাইন এলাকার কারখানায় জড়ো হয়ে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ভুখামিছিল করে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বর এলাকায় যান। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বিভিন্ন ভাতার টাকা পরিশোধের দাবি জানান। পাশাপাশি বন্ধ ঘোষণা করা কারখানা বিক্রি করলে শ্রমিকদের রেখে প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
মিছিল শেষে রূপাতলী গোলচত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সরদার। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সদস্য মো. বেল্লাল হোসেন গাজী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল শেখ, অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশ পাওয়ার পর এক সপ্তাহ ধরে শ্রমিক-কর্মচারীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবার আর্থিক সংকটে আছে। বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে।
শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সরদার অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর শ্রমিকদের শ্রমে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মালিকানা পরিবর্তন হলে বর্তমান শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমিকেরাই কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ। প্রতিষ্ঠানটি নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তর করলেও বর্তমান শ্রমিকদের চাকরিতে রাখতে হবে। একই সঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী তাঁদের সব পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
১০ জুন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিকা রহমান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল ও ডলার–সংকট এবং এলসি জটিলতার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় ১৩ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ২৬ ও ২৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে। তবে শ্রম আইনানুযায়ী তাঁদের সব পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ করা হবে বলেও কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়া এভাবে কারখানা বন্ধ করার কোনো বিধান নেই। শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া বেতন–ভাতাসহ যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই জানানো হয়নি। এতে চাকরিচ্যুত শ্রমিকেরা পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।