
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাবার ‘রাজনৈতিক’ কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় ছেলের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয় এবং গুলি ছোড়েন ছেলে। বাবা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন আরও একজন। রোববার দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া নারিশের গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত খোকা মিয়ার (৫৫) বাড়ি উপজেলার জমিরদিয়া মাস্টার বাড়ি এলাকায়। তিনি ভালুকা উপজেলা বিএনপির সদস্য। আহত অন্যজনের নাম মো. খোকন (৪৫)। তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাত সোয়া আটটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, খোকা মিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত আছে। রোগীর বর্ণনা অনুযায়ী ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পা থেকে গুলি খোলা হয়েছে। রোগীর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ থাকায় আঘাতটি গুরুতর। রাতে রোগীর অস্ত্রোপচার করা হবে। গুলির বিষয়টি দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা কিছু জানাননি। অস্ত্রোপচারের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খোকা মিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের সমর্থক ছিলেন। তাঁর ছেলে তোফায়েল আহমেদ (রানা) ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সমর্থক। খোকা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সন্তান তোফায়েল। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে বিচ্ছেদ হয় খোকা মিয়ার। বিএনপির দুই পক্ষের রাজনীতি করা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
উপজেলার নারিশের মোড়ে খোকা মিয়ার একটি কার্যালয় আছে। রোববার বেলা দেড়টার দিকে ওই কার্যালয়টি খোলেন তাঁর ছেলে তোফায়েল। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ছেলে তোফায়েল পিস্তল দিয়ে তাঁর বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। খোকনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে চেয়ার–টেবিল ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে খোকা মিয়া ও মো. খোকনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খোকা মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়ির কাছে রানা (তোফায়েল) ৭-৮ জন লোক ও অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে এবং যেকোনো অঘটন ঘটাবে খবর পেয়েছিলাম। আমি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবগত করে লোকজন নিয়ে তাকে আটকাতে যাই। আমি অফিসের সামনে যেতেই আমার পায়ে গুলি করে। সবাই যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন আমার পিঠে আরেকটি গুলি করে।’
এ বিষয়ে জানতে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন বলেন, বাবা-ছেলের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধে আজকের ঘটনা। এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাবা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। ছেলে অন্য পক্ষের হয়ে কাজ করে, শুনছি। বিষয়টি রাজনৈতিক নয়; এ কারণে আমরা এ ঘটনায় বিস্তারিত জানতে আগ্রহী হইনি।’