চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় সিডিএর খাল সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ সকালে সল্টগোলার মহেশখাল এলাকায়
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় সিডিএর খাল সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ সকালে সল্টগোলার মহেশখাল এলাকায়

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার পুরোনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম নগরের সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অতিরঞ্জিত’ প্রচার চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে চট্টগ্রাম নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বাস্তবে নগরী পানির নিচে তলিয়ে যায়নি, ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল।

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও খাল সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন বলে সিটি করপোরেশনের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের মহেশখাল, চাক্তাই, রাজাখালী ও প্রবর্তকে হিজড়া খাল পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সিটি করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে জরুরি সভায় কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত চট্টগ্রামে এসে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে। আমি গতকাল বুধবার রাত থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে তেমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখিনি।’

মীর শাহে আলম বলেন, হঠাৎ ৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাবেই পানি সরতে কিছুটা সময় লাগে। এটিকে জলাবদ্ধতা বলা যাবে না, এটি সাময়িক জলজট। নগরের ৩৬টি খালের মধ্যে কয়েকটি খালে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় পানি জমেছিল। রিটার্নিং ওয়াল ও অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। চলমান প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হলে স্থায়ী সমাধান আরও দৃশ্যমান হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামবাসীকে ২০২৪ সালের পরিস্থিতিতে ফিরতে হবে না। অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের নকশা অনুযায়ী খাল, স্লুইসগেট ও নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন করা হচ্ছে। স্বাভাবিক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হবে না, যদিও অতিভারী বর্ষণে কয়েক ঘণ্টার জলজট তৈরি হতে পারে।

পরিদর্শনে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে সিটি করপোরেশন কাজ করবে। যেসব এলাকায় চলমান প্রকল্পের কারণে সাময়িক জলজট হয়েছে, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা কথা বলব এবং সহযোগিতার চেষ্টা করব। আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’

১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। আজ দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। কমিটিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রকে আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, কমিটি চট্টগ্রাম নগরের খাল ও পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের অগ্রগতি তদারকি করবে।

কমিটির কার্যপরিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির কাজ হলো নগরের খাল ও ড্রেনেজের ব্যবস্থা সারা বছর সচল রাখা এবং জলাবদ্ধতা কমাতে চলমান প্রকল্পগুলোর তদারকি করা। পাশাপাশি জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোয় সমন্বয় করবে তারা। প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প দ্রুত নেওয়া ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে কমিটি। নিয়মিত সভার মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি দেখা হবে। দরকার হলে সরকারকে সুপারিশ দেবে এবং অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করতে পারবে।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন), চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন–১ শাখার উপসচিব ও চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)।

এ ছাড়া সদস্য রয়েছেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।

কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদ।