ওপরে মচমচে ও ভেতরে নরম ‘গুলগুলা’ কুমিল্লায় জনপ্রিয় খাবার

সুস্বাদু গুলগুলা ভেজে তুলছেন দোকানি মো. জাহাঙ্গীর। কুমিল্লা সদর উপজেলার ধর্মপুর পশ্চিম চৌহমনী এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

কুমিল্লার গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকান কিংবা শহরতলির চায়ের দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে ‘গুলগুলা’। কম দামে গরম এই পিঠা সব শ্রেণির মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। নরম তুলতুলে পিঠা গুলগুলার উপরিভাগ মচমচে ও ভেতরটা নরম। আটার তৈরি এই পিঠার চাহিদা শীতকালে বেশি। অন্যান্য ঋতুতেও কদর আছে।

এই পিঠাকে কেউ গুলগুলি, কেউ গোলগোলা বলেও চেনেন। দোকানের বাইরে ভোজনপ্রিয় নারীরা এখন বাসাবাড়িতেও এই পিঠা তৈরি করেন। অতিথি আপ্যায়নে অনেক পদের মধ্যে এটিও একটি সাজানো থাকে।

কুমিল্লা শহরতলির ধর্মপুর মোড়ে, আদর্শ সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চাঙ্গিনী এলাকায়, মুরাদপুর, দক্ষিণচর্থা, চকবাজার, কালিয়াজুরি, বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজার, বরুড়া উপজেলার রামমোহন বাজার ও তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজারে দেদার গুলগুলা বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাতারপ্রবাসী বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘১৯৮৮ সালে আমরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। তখন বিদ্যালয়ের সামনের চায়ের দোকানে গুলগুলা ভাজত। আট আনা, এক টাকা করে বিক্রি হতো। দোকানদার ভাজতেন, আমরা দাঁড়িয়ে খেতাম গরম-গরম গুলাগুলা।’ নগরের রানীর দিঘির পাড়ের সাজ্জাদুল কবীর বলেন, ‘ছোটবেলায় আট আনা (৫০ পয়সা) দিয়ে খেতাম। এখন ১০ টাকা হয়ে গেছে।’

ধর্মপুর এলাকার দোকানি মো. জাহাঙ্গীর বলেন, তেল, আটা, চিনির দাম বেড়েছে। তাই গুলগুলার দামও বেশি। প্রতিটি গুলগুলা বিক্রি হয় ১০ টাকা করে। শিশুদের কাছে ভীষণ প্রিয় এটি। এ ছাড়া শ্রমিকেরাও এটি পছন্দ করেন। সকালের চেয়ে বিকেলে এই পিঠা বেশি বিক্রি হয়।

কুমিল্লা নগরের ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সড়কের বাসিন্দা তানজিনা বেগম জানালেন গুলগুলা তৈরির রেসিপি। তিনি বলেন, আটা, ইস্ট, কুসুম গরম পানি, লবণ, চিনি, নারকেল কোরা (কুচি করা নারকেল), বেকিং সোডা ও জিরা মিশ্রণ করে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত রাখতে হবে। এরপর ডুবো তেলে গরম করতে হবে। পরে তেলের মধ্যে গোল গোল করে আটার মিশ্রণ ফেলতে হবে। এরপর ভেজে গরম-গরম খেতে ভালো। গুলগুলা আটা দিয়ে ভালো হয়। চাইলে ময়দা দিয়েও করা যেতে পারে। তবে ময়দা চেয়ে আটা ভালো। সবকিছু মেখে কয়েক ঘণ্টা রাখলে মিশ্রণ ভালো হয়। তখন আরও ভালো লাগে।

চিকিত্সক দিলদার সুলতানা বলেন, ‘তেলেভাজা মচমচে খাবার গুলগুলা। ভালো মানের আটা, তেল দিয়ে ভাজলে ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলে কোনো সমস্যা নেই। বাচ্চারা তো বেশ পছন্দ করে।’