নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন

বিকেএমইএর সভাপতিকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলায় এনসিপির এমপি আল আমিন অবরুদ্ধ, দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা।

আব্দুল্লাহ্ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি এ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় পার্টি–দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বিকেএমইএ সভাপতি থাকাকালে ওই কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের এই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হাতেম।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে ওই ইফতার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন ও মোহাম্মদ হাতেম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন এসে উপস্থিত হন এবং তিনি মঞ্চে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে সেখানে বসতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর এই বক্তব্যে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ তাঁর অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান বর্জন করেন। সেখানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আমিনকে অবরুদ্ধ করেন মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরা। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আটটার দিকে আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইফতার অনুষ্ঠান থেকে ওয়াক আউট করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এমপি মহোদয়কে নিরাপত্তা দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এমপির

ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন জেলা এনসিপি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাহেব ফ্যাসিস্টদের দোসর। তাই তাঁর সঙ্গে মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দর্শকসারিতে বসি। এর জেরে মোহাম্মদ হাতেম ও তাঁর অনুসারীরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ইফতারের পর মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারীরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার হুমকি দেন এবং পাঁচজন নেতা–কর্মীকে আহত করেন।’

আব্দুল্লাহ্ আল আমিন আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্টকে কোনোভাবে পুনর্বাসন দেখতে চাই না। জনগণ গুন্ডামি চায় না। যারা মব করেছে, দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে, অবশ্যই প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ফ্যাসিস্টদের যেভাবে ছাত্র-জনতা বিতাড়িত করেছে, প্রয়োজনে ছাত্র-জনতা আবার ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে।’

‘শিল্পমালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল’

এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারও ছিলেন। আমাদের এমপি আব্দুল্লাহ্ আল আমিন মহোদয় তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে আমাকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে সম্বোধন করলে উপস্থিত শিল্পমালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর আমি মালিকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি। আমরা বের হয়ে চলে যাওয়ার পর, উনারা (শিল্পমালিকেরা) আয়োজকদের কাছে জানতে চান, কেন আমাদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে আমাদের সভাপতিকে অপমান করা হলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখানে আরও মালিকেরা জড়ো হন।’

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘আমি এসপি সাহেবকে জানাই, আমাদের সংসদ সদস্যকে নিরাপদে যাতে সরিয়ে নেওয়া হয়। আমাদের ব্যবসায়ী নেতাদের সেখানে পাঠিয়েছি এবং পুলিশকে অনুরোধ করেছি, উনাকে কোনোভাবেই যেন অসম্মানিত না করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে উনাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।’