
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত এক নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। দাবি আদায় না হলে আগামী শনিবার থেকে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি ঘোষণা দেওয়া হয় কর্মসূচি থেকে।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং–সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
আজ সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার হাতে অবস্থান নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। মানববন্ধন শেষে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আগামীকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়। দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতি ও জরুরি বিভাগে শাটডাউন পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জামান মোহাম্মদ নুরশাদ, সহসাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মীর মুহাম্মদ ওমাইর, ইন্টার্ন কল্যাণ সম্পাদক নুসাইবা নুরাইন প্রমুখ। এ ছাড়া অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, ‘যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করব। তবে দাবিগুলো উপেক্ষা করা হলে শনিবার থেকে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করা হবে। জরুরি বিভাগেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবা কার্যক্রম স্থগিত রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’
বক্তারা বলেন, মাত্র এক হাজার ট্রেইনিকে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও বাস্তবতাবিবর্জিত। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ৩০ হাজার টাকা করা, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ৯ম গ্রেডের সমমান নির্ধারণ এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানান তাঁরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন।
এ ছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।