
২০০৯ সালের কথা, বয়স তখন সাত বছর। বাবা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় মেসির একটি পোস্টার এনে দেন। গল্প শোনান মেসিকে নিয়ে। সেই থেকে মেসির ভক্ত হয়ে যান ছেলেটি। ২০১৮ সালে তিনি যখন দশম শ্রেণির ছাত্র, তখন বাড়িতে প্রথম আলো নিতে শুরু করেন বাবা। শুরু হয় ছেলের পাগলামি। পত্রিকায় মেসির যত ছবি ও সংবাদ ছাপা হয়, তা কেটে কেটে নিজের ঘরের দেয়ালে লাগাতে শুরু করেন ছেলে। ছবি আর সংবাদে এখন পুরো দেয়াল ভরা। এই দেয়ালের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেসির দেয়াল’।
মেসিভক্ত এই ছেলেটির নাম লাবিব সুনাম। বয়স এখন ২৩ বছর। তিনি পাবনা জেলা সদরের কাচারিপাড়া মহল্লার গ্রাফিক ডিজাইনার ফজলুল হকের ছেলে। পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে।
সরেজমিন ফজলুল হকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় লাবিবের কক্ষ। কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ে মেসির নানা ছবি। ডান পাশের দেয়ালের প্রায় পুরোটাই মেসির ছবি ও সংবাদ সাঁটানো। সবই প্রথম আলোতে ছাপা। সঙ্গে আছে মেসির ছবি। তবে সবার আগে বাংলাদেশের একটি পতাকা।
কথা হয় লাবিবের সঙ্গে। তিনি জানান, ফুটবলার মেসিকে চেনাজানার সময় তিনি নার্সারিতে পড়তেন। তখন বাবার মুখে মেসির খেলার গল্প শুনে ভালো লাগে। পরে বড় হয়ে খেলা দেখে মেসির প্রেমে পড়ে যান। সেই থেকে শুরু হয় মেসির সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ। প্রথম আলোতে যত সংবাদ ও ছবি ছাপা হয়েছে সবই তিনি কেটে কেটে দেয়ালে লাগিয়েছেন। পরে নিজের কক্ষের দেয়ালের নাম দিয়েছেন মেসির দেয়াল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আর ছবি লাগাতে পারেননি। তবে এ বছর আবার ছবি সংবাদ সংগ্রহ করছেন।
লাবিব বলেন, ‘আমার ঘরের দেয়ালে মেসির যত ছবি সংবাদ আছে, এসবের সঙ্গে আছে দুঃখ–বেদনা গাথা। কারণ, ওই বছরগুলোতে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ পায়নি। তবে শেষ বিশ্বকাপের সুখের স্মৃতিও আছে সেখানে। আমি আমৃত্যু এই স্মৃতি বহন করতে চাই। ঘরের একটি দেয়াল মেসির জন্য রাখতে চাই।’
লাবিবের মা পারুল আক্তার বলেন, ‘ছেলে মেসিভক্ত। হয়তো একদিন পুরো ঘরটি ছেলে মেসির ছবি দিয়ে সাজাবে। ছেলেকে দেখে আমরাও এখন মেসিভক্ত হয়েছি। এই বিশ্বকাপে মেসি অনেক ভালো কিছু উপহার দেবে, এই প্রত্যাশা করছি।’
বাবা ফজলুল হক জানান, ছেলের তৈরি করা মেসির দেয়াল তাঁর কাছে একটি ইতিহাসের মতো মনে হয়েছে। দেয়ালে অনেক স্মৃতি গাঁথা আছে। তাই দেয়ালটিতে কোনো দিন হাত দেননি। ঘরের চারটি দেয়াল যদি মেসির ছবি ও সংবাদে ভরে যায় তাতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই